আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্কে কর্মবিরতিতে ঠাকুরগাঁও এলজিইডি।

প্রকাশ : 10 Mar 2025
আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্কে কর্মবিরতিতে ঠাকুরগাঁও এলজিইডি।

মোঃ মহশীন আলী, রংপুর অফিস: চাঁদা দাবির পর চাঁদা না পেয়ে সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়ে ঠাকুরগাঁও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের  প্রকৌশলীদের উপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (৮ মার্চ) দুপুরে জেলা সদরের শিবগঞ্জের রসুলপুর শারালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 


এ ঘটনায় রোববার (৯ মার্চ) সদর থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরো অজ্ঞাত ২০ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন প্রতিষ্ঠানটির কার্য্য সহকারী রেজওয়ানুল হক। প্রতিবাদে পালন করছে কর্ম বিরতি। এতে থমকে আছে এলজিইডি-ঠাকুরগাঁও এর উন্নয়ণমুলক সব কাজ।


মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় জেলা সদরে রসুলপুর থেকে শিবগঞ্জ শারালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি সড়কের কার্পেটিং কাজ করছিলো শ্রমিকেরা। এ সময় ওই এলাকার আলম, আবু হোসেন মতিউর ও আরিফসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০ জনের একটি দল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি'র) কার্য সহকারী রেজওয়ানুল হকের পথরোধ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। 


চাঁদা দিতে না পারায় সড়কের কার্পেটিং কাজ বন্ধ করে দেয়। এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে মারধর করে। এতে রেজওয়ানুল হক গুরুতর আহত হয়। 


খবর পেয়ে এলজিইডি'র সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ফরহাদ হোসেন সৌরভ, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজিবুল হাসান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাজমুস সাকিব আকাশ ও ল্যাব সহকারী আমিনুল ইসলাম রেজওয়ানুল হককে  দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা করতে গেলে তাদের উপরেও হামলা করে। পরে তারাও আহত হলে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।


এ ঘটনার পর এলজিইডি'র কার্য্য সহকারী রেজওয়ানুল হক বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে আসামীরা হলেন- সদরের শিবগঞ্জ শারালী এলাকার মৃত আকিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ আলম (৫০), জলিলের ছেলে আবু হোসেন (৫০), মৃত আকিম উদ্দিনের ছেলে মতিউর (৩৫) ও মোঃ আলমের ছেলে মোঃ আরিফ (২৫)।


এ বিষয়ে এলজিইডি'র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন বিশ্বাস জানান, কাজ করতে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি মারধরের শিকার হয়ে থাকে তাহলে কাজ করবো কিভাবে? জীবনের নিরাপত্তা কে দিবে? থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেফতার করেনি। তাই তারা কর্ম বিরতি পালন করছে সবাই। আসামীরা গ্রেফতার হলে আতঙ্ক কাটবে। কাজে ফিরবে সবাই। 


আর এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা দায়ের হয়েছে। আসামীদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;