বাজেট নিয়ে বাম জোটের প্রতিক্রিয়া

প্রকাশ : 05 Jun 2025
বাজেট নিয়ে বাম জোটের প্রতিক্রিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট: ২০২৫-২৬ সালের ঘোষিত বাজেট সম্পর্কে বাম গণতান্ত্রিক জোট বলেছে, গতানুগতিক পথে হেঁটে যে বাজেট ঘোষণা করা হলো, তা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষা করবে না। এই বাজেটে বৈষম্যহীনতা ও টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হলেও বাস্তবে মুক্তবাজারের পুরনো ধারাবাহিকতার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে, যা বৈষম্য, বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ সংকট কোনোটাই মোকাবিলা করতে পারবে না।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, বাসদ(মার্ক্সবাদী)’র সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী আজ ২ জুন ২০২৫, মঙ্গলবার প্রদত্ত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বিরাট কোনো প্রত্যাশা না থাকলেও সাধারণ মানুষ আশা করেছিল, বাজেটে তাদের জীবনের স্বস্তির পদচিহ্ন দেখতে পাবে। কিন্তু আমরা দেখলাম সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সার্বজনীন রেশন ব্যবস্থা, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা-এর কোনো প্রতিফলন নাই। লুটেরা এবং দুর্নীতিবাজদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে ওই টাকা স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ সরাসরি সাধারণ মানুষের স্বার্থের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার আকাক্সক্ষা থাকলেও তার ছিটেফোঁটা পর্যন্ত নাই। বরং প্রতিদিন এ লুটেরা পুঁজিবাদী শাসকদের ধারাবাহিকতায় অনুপার্জিত আয়কে বৈধতা দেওয়ার জন্য সংবিধান বহির্ভূতভাবে কালো টাকাকে সাদা করার বিধান রাখা হয়েছে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

স্বচ্ছতা জবাবদিহিতার কথা বলা হলেও এই বাজেট প্রণয়নের আগে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই কাজটি করার মধ্য দিয়ে বাজেট প্রণয়নে মানুষের আকাক্সক্ষার কথা শুনতে পারতেন। এটি না শোনার ফলে প্রদত্ত বাজেট সাধারণ মানুষের কল্যাণে কোনো ভূমিকা রাখবে না বরং পূর্বের ধারাবাহিকতাকেই অগ্রসর করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে।

আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করলাম যে, প্রবৃদ্ধির যে টার্গেট ধরা হয়েছে তা মোটেই অর্জিত হবে না। মূল্যস্ফীতি যথাযথভাবে কমানো যাবে বলে মনে হচ্ছে না। এছাড়া বৈষম্য দূর করার কোনো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না থাকায় দেশে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য আরও বাড়বে।

বিবৃতিতে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বাজেট প্রণয়ন, দুর্নীতির টাকা উদ্ধার করে তা সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি সুবিধা পায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট খাতে ব্যয় করার আহ্বান জানান হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয় অতীতে আমরা দেখেছি ঋণ করে ঘি খাওয়ার প্রবণতা আমাদের দেশের মানুষকে ঋণের ফাঁদে আটকে ফেলেছে। এবারও সরকার এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। ঋণের সুদ পরিশোধ, জনপ্রশাসন এসব খাতেই বাজেট বরাদ্দের বিরাট অংশে টাকা চলে যাচ্ছে। সরকার প্রয়োজনে এই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব সম্পদের ওপরে ভর করে বাজেট প্রণয়নের ধারাকে একটা দৃশ্যমান ধারা হিসেবে সামনে নিয়ে আসার কাজটি করতে পারত। সেটি না করে সরকার পুঁজিবাদী ধারাটি আমাদের দেশের নিয়তি হিসেবে ঘোষণা করলো। যা আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না।

বিবৃতিতে বলা হয়, এ বছরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি এবং সরকার এই পথে এগোবে এটা সবার আকাক্সক্ষা। এ জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা দরকার। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ জন্য যে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে তার অর্ধেক মাত্র বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে- এটি প্রশ্নের উদ্বেগ করেছে। এমনকি শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের অর্থের ওপর  বাজেটে ১০% কর  ধরা হয়েছে। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না।

বিৃবতিতে বলা হয় দেশের কৃষিকাজ গার্মেন্টসসহ শিল্প শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ, বিদেশে অবস্থানরত শ্রমজীবী মানুষ এবং এসএমসি খাত দেশকে, দেশের অর্থনীতিকে সফল রেখেছে। বাজেটে তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সুখবর দেওয়া হয়নি।

বিবৃতিতে আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানানো হয়।

সম্পর্কিত খবর

;