উজিরপুরে মাদকের ভয়াল থাবা, ধ্বংসের পথে যুবসমাজ

প্রকাশ : 19 Jun 2026
উজিরপুরে মাদকের ভয়াল থাবা, ধ্বংসের পথে যুবসমাজ

মহসিন মিয়া লিটন, বরিশাল অফিস: বরিশাল জেলার উজিরপুরে মাদকের ভয়াল গ্রাসে আগামী দিনের জাতির কর্ণধার যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। যে কোনো জাতির মূল চালিকাশক্তি হলো তারুণ্য বা যুবসমাজ। কিন্তু এই যুবসমাজের একাংশ যখন মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হয়, তখন একটি দেশ ও জাতির স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে শুরু করে।


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের কোনো বিকল্প নেই। মাদক কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবারকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে পঙ্গু করে দেয় এবং সমাজকে অপরাধের আখড়ায় পরিণত করে।


বর্তমানে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ংকর মাদকের ছোবলে সমাজের নৈতিক অবক্ষয় ঘটছে। মাদকাসক্তির কারণে সমাজে চুরি, ছিনতাই, খুন, পারিবারিক সহিংসতা ও দুর্নীতির মতো অপরাধ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন সুস্থ, মেধাবী ও কর্মঠ প্রজন্ম। যুবসমাজ যদি মাদকমুক্ত থাকে, তবে তারা তাদের মেধা ও শ্রম দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে নারী ও কিশোর বয়সীরা। এদিকে উজিরপুরে চুরি, ডাকাতিসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কিছুটা কমে এলেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারি ও সেবনকারীরা। প্রতিদিন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অলিগলি ও নির্জন স্থানে মাদক ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়।


তবে সপ্তাহজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অভিযানে উজিরপুর সদর, ওটরা, হারতা ও সাতলা এলাকা থেকে কয়েকজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ৫টি মামলায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


এদিকে উজিরপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা দিয়েছেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান হাওলাদার বলেন, “মাদক কারবারিরা কোনো দলের হতে পারে না। দলমত নির্বিশেষে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”


সচেতন মহল মনে করছে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এজন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও জরুরি।


মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে পারলে সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা গড়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


সম্পর্কিত খবর

;