বাংলাদেশ হয়ে সেভেন সিস্টার্সে যাওয়ার রেল প্রকল্প স্থগিত করেছে ভারত

প্রকাশ : 20 Apr 2025
বাংলাদেশ হয়ে সেভেন সিস্টার্সে যাওয়ার রেল প্রকল্প স্থগিত করেছে ভারত

বাংলাদেশ হয়ে সেভেন সিস্টার্সে যাওয়ার রেল প্রকল্প স্থগিত করেছে ভারত 

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ রেলওয়ে সংযোগ প্রকল্পে প্রায় ৫ হাজার কোটি রুপির অর্থায়ন ও নির্মাণ কাজ স্থগিত করেছে ভারত। শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার ( ২০ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু প্রতিবেদনের বরাতে অনলাইন পোটাল বি.বার্তা ডটকম এ খবর দিয়েছে।

পোটালটি জানিয়েছেন, চলমান প্রকল্পের কাজ এবং পা×চটি আলাদা জায়গায় জরিপের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানায়, এরমাধ্যমে বাংলাদেশের রেলপথের মাধ্যমে ভারতের মুল ভূখন্ডের সঙ্গে তাদের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে (সেভেন সিস্টার্স) যুক্ত করার পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটেছে।

বাংলঅদেশ নিজেদের রেল নেটওয়ার্ক তৈরীর বদলে এখন নয়াদিল্লী এই অর্থ দিয়ে উত্তর ভারতের রেলপথ অবকাঠামোর উন্নত করছে। এছাড়া বাংলাদেশকে এড়িয়ে নেপাল ও ভুটানের মাধ্যমে মূল ভূখন্ডের সঙ্গে সেভেন সিস্টার্সকে যুক্ত করার কথঅ ভাবছে দেশটি। 

একটি সূত্র জানিয়েছে, নেপাল ও ভূটানের মাধ্যমে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার কোটি রুপির সংযোগ প্রকল্পের বিষয় ভাবা হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থগিত করা এ প্রকল্পগুরো ভারতের 'স্থলবেষ্টিত' উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বাংলাদেশের মাধ্যমে যুক্ত করার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই প্রকল্পের পরিকল্পনা ছিল সরু শিলিগুঁড়ি করিডরের (চিকেন নেক করিডর) ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমানো। যেটি ভারতের মূল ভূখন্ড থেকে উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে যুক্ত করার একমাত্র পথ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এ মুহূর্তে বাংলাদেশে কোন নির্মাণ বা উপকরণ আমরা পাঠাচ্ছি না। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সংযোগ রুটের অর্থায়ন বন্ধ আছে। ( প্রকল্প পুনরায় শুরু করতে) প্রথমে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত অংশে প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশে সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের মূল্য ছিল ১২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ভারতের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ঢাকা নয়াদিল্লির সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

ভরতের সহযোগীতায় নির্মাণাধীন তিনিট প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আখাউড়া-আগড়তলা ক্রস-বর্ডার রেল সংযোগ এবং খুলাবুড়া-শাহবাজপুর রেললাইন, খুলনা-মোংলা বন্দর রেলরাইন এবং ঢাকা-টঙ্গি-জয়দেবপুর রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্প।

আখাউড়া-আগড়তলা (ত্যিপুরা) ক্রস-বর্ডার রেল সংযোগ প্রকল্প ভারত সরকারের ৪শ কোটি রুপি সহায়তা করা হচ্ছিল্ এই রেল সংযোগের দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক  ২৪ কিরোমিটার। যার ৬ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন বাংলাদেশ। আর ত্রিপুরায় ৫ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার। খুলবুড়া-শাহজাদপুর রেললাইন এই প্রকল্পের অংশ। এটি লক্ষ্য ছিল নতুন রেললাইন নির্মাণ ও পুরোনো লাইনের মাধ্যমে আসামের সঙ্গে সংযোগ উন্নত করা। 

খুলনা-মোংলা বন্দর রেললাইন প্রকল্পের কাজ চলছিল কনসেশনাল লাইন অব ক্রেডিটের মাধ্যমে। এই প্রকল্পের খরচ ৩ হাজার ৩০০ কোটি রুপি। এটির মাধ্যমে মোংলা বন্দর ও খুলনার মধ্যে ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রেড গেজ রেলরাইন নিমার্ণ করা হচ্ছিল। এরমাধ্যমে বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহৎ মোংলা বন্দর ব্রডগেজ রেললাইনের আওতায় আসবে। এই বন্দরে ভারতের একটি টার্মিনাল পরিচালনার অধিকার রয়েছে।

অপরদিকে ঢকা-টঙ্গি-জয়দেবপুর রেললাইন সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালে শেষ হওয়ার কথা আছে। তবে বিলম্বিত এ প্রকল্পের কাজটি গত বছর পর্যন্ত মাত্র ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। ১ হাজার ৬০০ কোটি রুপির এ প্রকল্পরের কাজটি করা হচ্ছে ভারতীয় এক্সিম বাংকের সহায়তায়। তবে এক্ষেত্রে অর্থ ছাড়ে কিছু ঝামেলা দেখা গেছে বলে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছেন। 

আর পাঁচটি আলাদা জায়গায় যে স্থান জরিপের কাজ চলছে সেগুলোর কাজও স্থগিত করা হয়েছে।

ভারত তার অভ্যন্তরীণ ও বিকল্প আঞ্চলিক কৌশল পরিবর্তন করেছে। এর অংশ হিসেব ভারত সরকার উত্তর প্রদেশ এবং বিহার রেললাইন দ্বিগুণ থেকে চারগুণ করার সম্ভাব্যতা যচাই করেছে। এরমাধ্যমে নিজেদের নির্ভরতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সেখানে এখন জরিপ কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের এক কর্মকর্তা।

একই সঙ্গে , বারত ভুটান ও নেপালের মধ্যে রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। যদিও লজিস্টিক্যালি এ রুটগুলো খুবই জটিল হবে। কিন্তু এগুরোর মাধ্যমে বাংলাদেশের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে পারবে ভারত।

উদাহরন স্বরূপ, ভারত ও নেপালের মধ্যে রেললাইন সংযোগ স্থাপনের আগের যে পরিকল্পনাটি আছে সেটি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। যারমধ্যে রয়েছে বিরাটনগর-নিউ মারের মধ্যে ১৯০ কিরোমিটার এবং কাজালিবাজার সেকশনের গালগালিয়া-ভদ্রপুর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ।

অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গ (শিলিগুড়ি করিডরের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে) কুমেডপুর-বিহারের মধ্যে সংযোগ বৃদ্ধির লকাষ্যে াারও ২৫ কিরোমিটার নতুন লাইন স্থাপন করা হবে।


সম্পর্কিত খবর

;