ব্যাংক অবরোধে চরম উত্তেজনা

ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও, পুলিশের জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেড

প্রকাশ : 01 Jun 2026
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও, পুলিশের জলকামান-সাউন্ড গ্রেনেড

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে আজ সোমবার ১ জুন দিনভর চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ ও ব্যাংকের পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে বিক্ষোভকারীরা সকাল থেকে ব্যাংকের প্রধান ফটক অবরোধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে টুপি-পাঞ্জাবি পরা কয়েকশ মানুষ মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবি, ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানকে তারা মানেন না এবং ব্যাংককে "দখলমুক্ত" রাখতে হবে। বিক্ষোভকারীরা "নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার" স্লোগান দেন এবং ব্যাংকের ফটক ঘিরে অবস্থান নেন। এ সময় ব্যাংকের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি পূর্বনির্ধারিত ভার্চুয়াল বোর্ড সভাও বাতিল করতে হয় বলে জানিয়েছে একাধিক গণমাধ্যম।


দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান নিক্ষেপ করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মতিঝিল এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নতুন চেয়ারম্যান "দুর্নীতিবাজ" এবং তাকে "স্বৈরাচারী" প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের ভাষ্য, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়েছে।


উল্লেখ্য, এর আগে চট্টগ্রামেও ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে "প্রহসনমূলক দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা" নিয়ে ২০০ জনকে চাকরিচ্যুত ও ৪ হাজার ৯৫৩ জনকে ওএসডি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ছয় দফা দাবিতে সর্বাত্মক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।


আজকের কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের সংগঠন ‘চাকরিচ্যুত ব্যাংকার ঐক্য’ দুপুর ১২টায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছিল। তাদের দাবি, অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।


ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যাংক দখলের চেষ্টা চলছে।


এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বিক্ষোভকারীদের "ভাড়াটে" ও "বট বাহিনী" বলছেন, আবার কেউ পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বলছেন "গ্রাহকদের ওপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না"। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।


সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। পরিস্থিতি থমথমে হলেও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।


সম্পর্কিত খবর

;