বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবস’-এর ৯৬তম বার্ষিকী স্মরণে আজ বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ যুব ফ্রন্টের যৌথ উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে ১৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রগতি বর্মন তমার সঞ্চালনায় এবং বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ শাহরিয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট, ঢাকা নগর কমিটির আহ্বায়ক রবিউল করিম নান্টু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য।
সভায় রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, “চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের ১৮ই এপ্রিলের ঘটনাপ্রবাহ আমাদের সংগ্রামী ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। সূর্য সেনের নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি গঠন, তার দীর্ঘ প্রস্তুতি, এবং স্কুলপড়ুয়া কিশোরদের অকুতভয় অংশগ্রহণ; সব মিলিয়ে এটি ছিল এক অসাধারণ সাহসিকতার দৃষ্টান্ত। দুই দফা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীকে পরাস্ত করার পর গেরিলা কায়দায় লড়াই চালিয়ে যাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে প্রায় তিন বছর চট্টগ্রাম অঞ্চলে আত্মগোপনে থেকেও ব্রিটিশদের নাগালের বাইরে থাকা— এই পুরো সংগ্রামই আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।”
জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, “ইতিহাসে আমরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের দুটি ধারা দেখি—একটি আপসহীন বা সশস্ত্র বিপ্লবী ধারা, অন্যটি আপসকামী বা অহিংস ধারা। কিন্তু আমাদের ইতিহাসের পাঠ্যে আপসহীন সশস্ত্র ধারাকেই অনেক সময় ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর আপসকামী ধারাকে ‘অহিংস আন্দোলন’ হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এটি একটি একপাক্ষিক ও বিকৃত উপস্থাপন। বাস্তবতা হলো, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রকাশ্য ও সশস্ত্র লড়াই ছিল একটি অবিচ্ছেদ্য উপাদান, যা স্বাধীনতা সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছে।
সুন্দরবনে দাঁড়িয়ে অহিংসতার কথা বললে লাভ তো বাঘেরই হয়। ঔপনিবেশিক শাসনের মতো নির্মম শক্তির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শুধু নৈতিক আবেদন দিয়ে মুক্তি অর্জন সম্ভব ছিল না। ইতিহাস প্রমাণ করে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র বিপ্লবী ধারাই শাসকের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। শোষণ ও দমননীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামে সশস্ত্র প্রতিরোধ ছিল অপরিহার্য এবং সেই লড়াইয়ের সাহস ও আত্মত্যাগকেই আমাদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, “আমরা যখন ১৮ এপ্রিল ‘চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ দিবস’ পালন করছি, তখন আমাদের উদ্দেশ্য শুধু শহীদদের স্মরণ করা বা ফুল দেওয়া নয়; বরং সেই সংগ্রামের চেতনাকে আজকের বাস্তবতায় ধারণ করা। এই বিদ্রোহ কেবল একটি ঘটনার স্মৃতি নয়, এটি এ দেশের মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের ধারাবাহিকতার অংশ। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান, সবকিছুই একই ধারার বহিঃপ্রকাশ।
এই ধারাবাহিকতাকে স্মরণ করার অর্থই হলো সেই সংগ্রামী চেতনাকে ধারণ করা। আমরা প্রত্যাশা করি, আগামীতেও এই চেতনা ধারণ করে শোষণ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আরও জোরদার হবে।”
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর লালবাগ শেখ সাহেব বাজার এলাকা থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী শারমিন সুলতানা সর্মি (৪৪)-কে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ থানা পুলিশ।শনিবার ( ...
স্টাফ রিপোর্টার: বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্ব পাওয়া নতুন সরকার আগামী পাঁচ বছরে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক র ...
স্টাফ রিপোর্টার: দেশের মানুষের সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী ও বী ...
ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এমপি মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবি ...
সব মন্তব্য
No Comments