ফরিদপুরে লিজ বিরোধে পানের বরজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি।

প্রকাশ : 05 Apr 2026
ফরিদপুরে লিজ বিরোধে পানের বরজে আগুন, কোটি টাকার ক্ষতি।

অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: বোয়ালমারী উপজেলায় লিজ নেওয়া জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পানের বরজে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দুই পানচাষী। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৩০ মার্চ উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ডহরনগর গ্রামে।


এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তপন গুহ ও আকরাম শেখ রবিবার (৫ এপ্রিল) ফরিদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।অভিযোগের ভিত্তিতে ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্ত হিসেবে একই এলাকার আতিয়ার রহমান আতু শেখ (৬০) ও তার ছেলে সুজন শেখ (৩০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক রয়েছেন।


ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে লিজ নেওয়া জমিতে তারা পান চাষ করে আসছিলেন। তবে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছিলেন। লিজ বাতিল না করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে পানের বরজে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।


সরেজমিনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ এলাকার পানের বরজ সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পোড়া বাঁশের খুঁটি, ঝলসে যাওয়া পানগাছ এবং ছাইয়ের স্তূপ এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এটি ছিল ওই এলাকার অন্যতম বড় পানের বরজ, যেখানে নিয়মিত ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক কাজ করতেন।


ঘটনার দিন দুপুরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত পুরো বরজে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; বরং পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। এতে তাদের জীবিকার প্রধান উৎস সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।


ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তপন গুহ বলেন, “এই বরজটাই ছিল আমার একমাত্র সম্বল। এখন পান তোলার মৌসুম চলছে। সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি।”


অন্যদিকে আকরাম শেখ বলেন, “আমাদের দুই পরিবারের শতভাগ বরজ পুড়ে গেছে। কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো, তা বুঝতে পারছি না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”


স্থানীয় বাসিন্দা হানিফ শেখসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আগুনের ঘটনার পর বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা চলছিল। তবে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।


স্থানীয় কৃষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু দুইটি পরিবারের ক্ষতিই নয়, বরং পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।


ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মধুসূদন পান্ডে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;