অযত্নে হারাচ্ছে জৌলুশ, সম্ভাবনাময় শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ

প্রকাশ : 18 Aug 2026
অযত্নে হারাচ্ছে জৌলুশ, সম্ভাবনাময় শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ

পিরোজপুর অফিস: সুন্দরবনের কাছাকাছি পানগুছি নদীর তীরে গড়ে ওঠা পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার শ্যামলী নিসর্গ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর সম্ভাবনা সত্ত্বেও অযত্নে জৌলুশ হারাচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে ‘ছোট সুন্দরবন’ নামে পরিচিত প্রায় ৪০ একর জায়গার এ বিনোদনকেন্দ্রটি কেওড়া, বাইন, গেওয়াসহ নানা ম্যানগ্রোভ গাছে ঘেরা।


২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর স্থানীয় ও আশপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থীরা আসতে শুরু করেন। বিশেষ করে সরকারি ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে ভিড় হতো। কিন্তু বর্তমানে পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা ও বিনোদনসামগ্রী নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অবকাঠামোর বেহাল দশা আর প্রয়োজনীয় সংস্কার ও তদারকির অভাবে দর্শনার্থীদের আগ্রহও কমে গেছে।


স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণের পর পূর্ণাঙ্গ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে উন্নত সড়ক যোগাযোগ, পর্যাপ্ত গাড়ি পার্কিং, বসার স্থান, বিশ্রাম ও থাকার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং আধুনিক বিনোদনসুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।


সংলগ্ন এলাকায় বাগেরহাটের খানজাহান আলীর মাজার, মোংলা বন্দরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় ও ধর্মীয় স্থান রয়েছে। এসব স্থানের সঙ্গে সমন্বিত পর্যটন পরিকল্পনা করা গেলে এ অঞ্চলকে আকর্ষণীয় পর্যটন রুট হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।


জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শ্যামলী নিসর্গ উপজেলার একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য সড়ক যোগাযোগ, গাড়ি পার্কিং ও থাকার ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।


পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন জানান, পার্কটি সংস্কারের জন্য নতুন প্রকল্পের আওতায় মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পার্কটিকে আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে কার্যক্রম চলছে। পিরোজপুরের পাশাপাশি বাগেরহাট ও ঝালকাঠি থেকেও দর্শনার্থীরা যাতে আসতে পারেন সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে ‘ছোট সুন্দরবন’ খ্যাত এ বিনোদনকেন্দ্রটির হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে প্রয়োজনীয় পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

সম্পর্কিত খবর

;