অর্ধেক ভোট গননার পর স্থগিত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

প্রকাশ : 13 Mar 2026
অর্ধেক ভোট গননার পর স্থগিত, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি॥ দিনভর শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট গ্রহন শেষে  অর্ধেক ভোট গননার পর রাতে স্থগিত করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবি সমিতির নির্বাচন। ভোটারের 'গোপনীয়তা নষ্ট হয়েছে' প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীর কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট আব্দুল মালেক নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করেন। এরপরই উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক বলেন, সারাদিন আমরা নির্বাচন করেছি। এরপর আমরা প্রায় ২০০ ভোট গণনা করেছি। একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছি। তাঁরা বলেছেন, ব্যালটের ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল না। কিন্তু এটা কোনো ত্রুটি না। আমাদের কাজ করার পরিবেশ থাকতে হবে। ভোট গণনার কোনো পরিবেশ ছিল না। 

আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচনের ভোটগ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। নির্বাচনে সমিতির মোট ৬৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ৬৫৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দুই শতাধিক ভোট গণনা করা হয়। তবে তার আগে সন্ধ্যায় সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন যে, ভোটারদের ব্যালট ও মুড়িতে একই ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ভোটারের 'গোপনীয়তা নষ্ট হয়েছে'। তাই তিনি নির্বাচন ও ভোট গণনা স্থগিতের দাবি জানান।

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানও মৌখিকভাবে একই অভিযোগ জানান নির্বাচন কমিশনে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাতে ভোট গণনা ও নির্বাচন স্থগিত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। মফিজুর রহমান ১১৭ ও আব্দুর রহমান ১০২ ভোট এবং আব্দুল হাই ১১১ ও আনিসুর রহমান ৭৮ ভোট পেয়েছিল। 

আইনজীবি সমিতির দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে, যে ভোট গননা হয়েছে তাতে দেখা যায় আওয়ামীলীগের প্রার্থীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে ৫০/৬০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। 

নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও জেলা আওয়ামীলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান বাবুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. ইউসুফ কবীর ফারুক, মো. ফরহাদ আহমেদ, সামসুল হক, সুধীর চন্দ্র ঘোষ; সহ-সভাপতি পদে আব্দুল হাকিম ও মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন সরকার; সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান, আওয়ামীলীগের এ কে এম আব্দুল হাই, সৈয়দ তারেক আলী, মুখলেছুর রহমান ও মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, মোহাম্মদ বশির আহমেদ খান।  সভাপতি প্রার্থী, জেলা আওয়ামীলীগের আইন সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, কোনো সমস্যা ছিল না। ভোট গণনা অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশন। এটা বিধি বিধানের বাইরে।


সম্পর্কিত খবর

;