ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কে বালু রেখে পুকুর ভরাট

প্রকাশ : 09 Mar 2026
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়কে বালু রেখে পুকুর ভরাট

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি॥ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় পুরোনো একটি পুকুর বালু দিয়ে ভরাট করছেন স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি। পুকুর ভরাটের বালু  সদর ও আশুগঞ্জ উপজেলার বিরাসার-লালপুর সড়কের পাশে রাখায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্থসহ পাশের খাল ভরাট  হচ্ছে। এদিকে সড়ক রক্ষায় এলাকাবাসী সড়ক ও জনপথের (সওজ) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের বিলকেন্দুয়াই গ্রামের ৫২ শতকের একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরের দক্ষিণ দিকে একটি মাজার ও বাকি চারপাশে স্থানীয় লোকজনের বাড়িঘর রয়েছে। স্থানীয় প্রয়াত ফজু মিয়া, তার ছেলে প্রয়াত ছিদ্দিক শাহ, ছিদ্দিক শাহ'র ছেলে শাহ আলম, ভাই নুর ইসলাম ও মন্নান মিয়া এই পুকুরের মালিক। এই চারজনসহ বিলকেন্দুয়াই গ্রামের কামাল মিয়া গত কয়েকদিন ধরে বালু ফেলে পুকুর ভরাট করছেন। পুকুর ভরাট করতে কামাল মিয়া অন্য জায়গা থেকে ড্রাম ট্রাক দিয়ে বালু এনে সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের খাকচাইল এলাকায় সওজের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-লালপুর আঞ্চলিক সড়কের উপর এবং পাশের খালে রাখছেন। সেখান থেকে খননযন্ত্র ও পাইপের মাধ্যমে বালু নিয়ে পুকুর ভরাট করছেন। 

এদিকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খন্দকার সড়কে অবৈধভাবে রাখা বালু, খননযন্ত্রসহ পাইপ লাইন নিজ খরচে অপসারণের জন্য বালু ভরাটকারী সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের বিলকেন্দুয়াই গ্রামের কামাল মিয়া, মানিক মিয়া, ভুট্টু মিয়া, নছর মিয়াকে নির্দেশ দিয়েছেন। মৌখিক ও লিখিতভাবে সওজের অনুরোধ করা সত্ত্বেও কামালের নেতৃত্বে তারা বেআইনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-লালপুর সড়কের খাকচাইল নামক স্থানে সড়কের পামপাশে সড়কের ফুটপাত ও সড়ক সোল্ডারসহ সড়ক বাঁধের উপর অবৈধভাবে বালু রাখা হচ্ছে। সেখান খননযন্ত্র দিয়ে বিভিন্ন স্থানে বালু স্থানান্তর করা হচ্ছে। এতে সড়ক সোল্ডার, সড়ক বাঁধ ও ফুটপাত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পাশাপাশি জনসাধারণ এবং যানবাহনের নিরাপদ চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ করে বলেন, কামাল এলাকায় বালু কামাল নামে পরিচিত। ট্রাকে বালু এনে সড়কের উপর ও পাশের খালে রেখে খননযন্ত্রসহ পাইপ দিয়ে গ্রামের ভেতরের পুকুর ভরাট  করছে। কামাল, নছর ও ভুট্টুর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।

অভিযুক্ত কামাল মিয়া বলেন, কিশোরগঞ্জের মেন্দিপুর থেকে বালু লালপুরে এনে এবং সেখান থেকে ট্রাকে এখানে ফেলে পাইপের মাধ্যমে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। পুকুরের মালিকরাই ভরাট করছেন। এভাবে বালু রাখলে সড়কের কোনো ক্ষতি হবে না।

শাহ আলম বলেন, মাজারের বার্ষিক ওরশ করার জন্য পুকুর ভরাট করছি। আমার বাপ-চাচারাই এই পুকুর মালিক।  

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া বলেন, এবিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

;