শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫)-কে আইনে পরিণত করার দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল

প্রকাশ : 28 Mar 2026
শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫)-কে আইনে পরিণত করার দাবিতে মানববন্ধন ও মিছিল


স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (বাজাফে: ১২)- এর উদ্যোগে আজ (শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শ্রমিক অধিকার ও শ্রমখাতের সুরক্ষা ও সংস্কারের জন্য শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫)-কে আইনে পরিণত করার জন্য জাতীয় সংসদে সরকার এবং সাংসদদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মানব-বন্ধন ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে । ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের (টাফ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জাতীয় ত্রি-পক্ষীয় পরামর্শক পরিষদ (এনটিসিসি),  শ্রম সংস্কার কমিশন (২০২৪)-এর সদস্য ও গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান শ্রমিক নেতা তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে মানব-বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানবন্ধনের সভায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাসান আশারাফ, টাফের যুগ্ম সম্পাদক আলীফ দেওয়ান, বহুমুখী শ্রমজীবি হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভুইয়া, হাতিরঝিল রিক্সা ভ্যান চালক শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান বেলাল হোসাইন নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব, আউটসোর্সিং শ্রমিক কর্মচারি পরিষদ-এর সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক পরিষদের সংগঠক মিজানুর রহমান বাদল, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সংগঠক সোহেলা রুমি, ঢাকা প্রাইভেট কার চালক ইউনিয়নের সংগঠক মোহাম্মদ শহিদ, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রধান এফ এম নুরুল ইসলাম, সিএনজি অটোচালক ইউনিয়নের সংগঠক শাহাদাত হোসেনসহ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন, টাফের নেতা অঞ্জন দাস।


নেতৃবৃন্দ বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তবর্তীকালীন সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে শ্রম অধ্যাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাতে জড়িয়ে আছে দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি শ্রমজীবির জীবনমান ও শ্রমখাতের সুরক্ষার প্রশ্ন। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থী-শ্রমিক-নারীর মধ্যে বড় অংশ ছিলো শ্রমজীবি। ঐ পাটাতনেই তৈরি হয় শ্রম সংস্কার কমিশন, কাজ করে জাতীয় ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ(এনটিসিসি) শ্রম মন্ত্রনালয় ও অংশীজনেরা। তৈরি হয় বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫। যেটি এখন নির্বাচিত সংসদে আইন হবার অপেক্ষায়। নেতৃবৃন্দ বলেন, ঈদের ছুটির পর আগামীকাল সংসদ, সকলে তাকিয়ে আছে অধিবেশনের দিকে। নবনির্বাচিত সরকারের সংসদের ৩০ দিনের মধ্যে এটি  আইন হিসাবে পাশ করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তা না হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। ইতিমধ্যে সংসদ রিভিউ কমিটি করেছে। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, শ্রমজীবির ভাগ্যে কি লিখতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত সাংসদ এবং সরকার মিলে শ্রম অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করার জন্য তারা জাতীয় সংসদকে আহ্বান জানান নেতৃত্ব।


তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের কারনেই  দেশে গণতন্ত্রের পথে যাত্রায় ত্রয়োদশ নির্বাচন হতে পেরেছে। কোন দেশের সরকার বা সাংসদরা দেশকে কতদুর এগিয়ে নিতে পারবে বা পেরেছে তার জরুরি মাপকাঠির মধ্যে রয়েছে ---ঐ দেশের অধিকাংশ শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের জীবনাবস্থা, মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার সুযোগের হালহাকিকত। ফলে শ্রমিকদের অধিকারের ক্ষেত্র ও শ্রমখাত প্রসারে এই অধ্যাদেশ দ্রুত সংসদে আইনে রূপান্তর সরকার এবং সাংসদদের জরুরি কর্তব্য ।


তারা আরো যুক্ত করেন , শ্রম অধ্যাদেশে মোট ১২৫ টি ধারার সংশোধন ও পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শ্রমিকের সংগঠন ইউনিয়ন করার শর্ত শিথীল হয়েছে । শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ইউনিয়ন করার শর্ত শতকরার বদলে সংখ্যায় পরিণত করার দাবিটি অধ্যাদেশে এসেছে। অধ্যাদেশের আগে ২০% বা ৩০% নিয়ে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার কাঠখড় পোড়াতে হতো। সেখানে অধ্যাদেশে প্রতিষ্ঠানে মোট ৫ টি স্লাবে এই ইউনিয়ন করার সুযোগ রয়েছে (‘২০ থেকে ৩০০ জন=২০ জন , ৩০১ থেকে ৫০০=৪০ জন ৫০১ থেকে ১৫০০ = ১০০ জন । ১৫০১-৩০০০=৩০০জন, ৩০০১ থেকে উপরে যা হয়= ৪০০ শ্রমিক) । শ্রমিক বা মালিকপক্ষের সকল প্রত্যাশা এ অধ্যাদেশে পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলিত না হলেও- এতে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার শর্ত আগের তুলনায় সহজিকরণ, গৃহ শ্রমিকদের শ্রমিক হিসাবে স্বীকৃতি, মাতৃত্বকালিন ছুটি ও উৎসব ছুটি বৃদ্ধি, পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর পর পর ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ, প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুবিধা, যৌননিপীড়ন বিরোধী নীতি মালা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটিসহ  শ্রমিক ও উত্পাদনশীলতাবান্ধব উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনা সংশোধন ও যুক্ত করা হয়েছে যা  ইতিবাচক। অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা গেলে তা শ্রমিকদের জন্য যেমন সুফল বয়ে আনবে, তেমনি পুরো শিল্পখাতের মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন নেতৃত্ব। প্রকৃত ইউনিয়ন এবং শ্রমিকদের দরকষাকষি জায়গা গণতান্ত্রিক-সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় এবং শ্রমখাতে দুর্নীতি-দুষন বন্ধতেও এই আইন একটি সূচনা বলে তারা মত দেন। 


তারা আরো বলেন, কোন দোহাইয়েই এটি আইন প্রনয়নে বাধা পেলে তা হবে সরকারের জন্য আত্মঘাতী এবং কয়েক কদম পিছিয়ে পড়া হবে। তাই সবার আগে দরকার অধ্যাদেশটি ‘শ্রম আইন ২০২৬’ এ পরিণত করা। যেটির গুরু দায়িত্ব সরকারের। এটি আইনে পরিণত হলে গণতন্ত্র পথের যাত্রায় এটি ভুমিকা রাখবে, নতুন নির্বাচিত সরকার ও সাংসদের স্মরণে রাখবে ইতিহাস। স্মরণ করবে শ্রম সংস্কার কমিশন এবং টিসিসির ভুমিকাকে।  “তাই আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কাছে শ্রমিক অধিকার ও শ্রমখাতের সুরক্ষায় শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫)-কে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”- বলেন তাসলিমা আখতার।

সম্পর্কিত খবর

;