‘অসম বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবিতে

সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আত্মপ্রকাশ

প্রকাশ : 09 Apr 2026
সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আত্মপ্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের ১৩টি বামপন্থী, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট’-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই জোটের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘অসম বাণিজ্য চুক্তি’ বাতিলের দাবি জানিয়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিবি’র সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভূইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন নাসু, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামীকাল ১১ এপ্রিল সারাদেশে জেলায়-উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল, ১৬ থেকে ২২ এপ্রিল ২০২৬ দেশব্যাপী ‘প্রচার সপ্তাহ’ উপলক্ষে জেলা-উপজেলাসহ সকল পর্যায়ে পদযাত্রা, সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, পোস্টার, লিফলেট, দেয়াল লিখনসহ প্রচার কর্মসূচি এবং আগামী ২৭ এপ্রিল বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে জাতীয় সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি পেশ এবং সংসদ সদস্যদের প্রতি খোলা চিঠি দেওয়া হবে।  

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুকিতে ফেলবে। চুক্তির বিভিন্ন ধারায় বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ও শুল্ক-বহির্ভূত বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি, খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম  আমদানিতে বাধ্য করা হবে, একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প ও কৃষি খাত মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং বিপুল কর্মসংস্থান হুমকির সম্মুখীন হবে। এছাড়া অন্যান্য দেশের সাথে স্বাধীনভাবে বাণিজ্য চুক্তি করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার তার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে নির্বাচনের প্রাক্কালে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। এমনকি সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলা, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সম্পর্কিত খবর

;