মোংলায় নাগরিক সংলাপে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ফরিদ
মোংলা থেকে মোঃ নূর আলম : জলবায়ু বিপর্যয়ের কবল থেকে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ২ মে শনিবার সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন, ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স।
শনিবার সকাল ১১টায় নাগরিক সংলাপে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম। সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও বাগেরহাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক। নাগরিক সংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার সুমী। নাগরিক সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরাম মোংলার সভাপতি পরিবেশকর্মী মোঃ নূর আলম শেখ। নাগরিক সংলাপে সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উপর মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স এর নির্বাহী পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল, উন্নয়নকর্মী তৃপ্তি সরদার ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুবহা তালহা। নাগরিক সংলাপে অন্যান্যদের বক্তৃতা করেন উপসচিব আলমগীর হুসাইন, মোংলা সার্কেল'র সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ রেফাতুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহীন হোসেন, মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আতিকুল ইসলাম, মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র পৌর বিএনপির সভাপতি মোঃ জুলফিকার আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু হানিফ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, মোংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনিরুল হায়দার ইকবাল, কেয়ার বাংলাদেশ'র রিজিওনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর পলাশ মন্ডল, ব্রাকের ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রোগ্রাম হেড আবু সাদাত মনিরুজ্জামান খান, নারীনেত্রী রাফিয়া জাহান মিশু, ক্লাইমেট এ্যাকশন ফোরামের আবুল কাশেম প্রমূখ। নাগরিক সংলাপে মুক্ত আলোচনায় মোংলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেন মোংলাসহ উপকূলের সুবিধা বঞ্চিত হতদরিদ্র মানুষদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ক্যাপ্টেন কার্ড, খাল খনন ও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা প্রদান করা হয়েছে। মোংলা রামপালে আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিলো সবার জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা। অচিরেই নির্বাচনী অঙ্গীকার হিসেবে সকলের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন জেলা পরিষদের সকল পুকুর দখলমুক্ত করে সুপেয় পানির আধার করা হবে। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক বলেন পুকুর খনন এবং সংরক্ষণ করে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হবে উপকূলের জন্য টেকসই পদ্ধতি । স্বাগত বক্তব্যে মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন জলবায়ু পরিবর্তনের বিপর্যয়ের ফলে উপকূলের প্রধান দুর্যোগ হলো লবণাক্ততা। সুপেয় পানির সংকটে মোংলাসহ উপকূলের মানুষের দিশেহারা। সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। সংলাপে বক্তারা বলেন উপকূলের ৭৩% মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। আধারযোগ্য পানি সরবরাহ করতে পারে না ৩ কোটি মানুষ। দেড় কোটি মানুষ ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি পানে বাধ্য থাকে। মোংলার ৬৫% মানুষের সুপেয় পানি সংগ্রহের কোন ব্যবস্থা নেই। বাকী ৩৫% মানুষকে বৃষ্টির পানি সংগ্রহের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি ভাবে পানির ট্যাংকি বিতরণ করা হলেও তা দিয়ে ৬ মাসের পানি ধারন করা সম্ভব। সংলাপে সুপারিশ আকারে বক্তারা বলেন বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যয় করতে হবে। বাগেরহাট জেলা পরিষদের শতাধিক পুকুর বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষের ইজারা বাতিল করে খাবার পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করতে হবে। পুকুর খনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে গ্রামে পাইপ লাইনের মাধ্যমে খাবার পানি সরবরাহ করতে হবে। মোংলা বন্দরের ৩টি পুকুর পৌরসভাকে ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিতে হবে যা দিয়ে সুপেয় পানি সরবরাহ করা সম্ভব। এডিপি ও টিআর এর বরাদ্দ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট নিরসনে প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। আশু সমাধান হিসেবে মোংলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে সুপের পানির সংকট নিরসনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য ব্যাপক ভাবে ট্যাংকি বিতরণ করতে হবে। নাগরিক সংলাপে সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করলে পরিবেশের জন্য তা ক্ষতি হবে। পানির টেকসই ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে। পানির কোয়ালিটি রক্ষা করতে হবে। জলবায়ু অভিঘাত মোকাবেলায় উপকূলের মানুষের জন্য সুপেয় পানির জন্য টেকসই প্রকল্প গ্রহন করতে হবে। সংলাপ শেষে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম মোংলা উপজেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন পানির প্রকল্প ঘুরে দ্যাখেন।
স্টাফ রিপোর্টার: অবাধ তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে হলে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের কোনো বিকল্প নেই—এমনটাই মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, তথ্যের স্বাধীনতা যেমন জরুরি, তেমনি অপতথ্য ...
সিলেট অফিস: “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’। শনিবার (বিকাল ৫টা) নগরীর রিকাবীবাজারস্থ সিলেট স্টেডিয়ামে ...
স্টাফ রিপোর্টার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ...
স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে আপাতত ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় সমুদ্র ...
সব মন্তব্য
No Comments