‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে রক্ষা করা অগ্রহণযোগ্য’: ইশরাক

প্রকাশ : 24 Jul 2026
‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে রক্ষা করা অগ্রহণযোগ্য’: ইশরাক

স্টাফ রিপোর্টার: স্বার্থান্বেষী কোনো গোষ্ঠীকে রক্ষা করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক। তিনি বলেন, বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিএনপির প্রার্থী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের চেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।


শুক্রবার (২৪ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।


প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, কেউ যদি কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে রক্ষা করেন, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অগ্রহণযোগ্য।


তিনি বলেন, বিভিন্ন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ও তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অতীতে অর্থনৈতিক অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং স্বৈরাচারী সরকারকে সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। সিটি গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, আরামিট গ্রুপ ও জেমকন গ্রুপসহ যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্ত হওয়া উচিত। কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে প্রমাণ ছাড়া দোষী ঘোষণা না করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


তিনি আরও বলেন, যে গোষ্ঠী গণমাধ্যম, অর্থ ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ভাড়াটে ব্যক্তিদের ব্যবহার করে বিএনপির প্রার্থী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, তাদের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে প্রতিহত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে এর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।


তিনি বলেন, যারা বিএনপি করেন, তাদের মনে রাখা উচিত— ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে দল ও দেশের স্বার্থ। কোনো ব্যক্তির আর্থিক বা ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য দলের একটি আসন, একটি অঞ্চল কিংবা একটি শহরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অধিকার কারও নেই।


প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, প্রথমে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব বিষয়ে প্রতিকার ও দিকনির্দেশনা চাওয়া হবে। এরপরও যদি ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা বন্ধ না হয়, তবে গণতান্ত্রিক, সাংগঠনিক ও আইনানুগ সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


তিনি আরও বলেন, যারা আজ বিভিন্ন বৃহৎ গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষাকারী বা ‘গেটকিপার’ হিসেবে কাজ করছেন, তাদের মনে রাখা উচিত— এই ভূমিকা সাময়িক। খুনি হাসিনার শাসনকে যারা অর্থায়ন করেছে এবং যাদের সহায়তায় জনগণের ওপর দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনতে হবে।


একই সঙ্গে তিনি বলেন, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে হাজারো শ্রমিক-কর্মচারীর জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হোক, তা চাওয়া হয় না। অভিযুক্ত মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো যেন পেশাদার, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত ব্যবস্থাপনায় সচল থাকে, সরকারকে সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।


প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা নয়; সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহি, আইনের শাসন এবং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের দাবি।


সম্পর্কিত খবর

;