জুলাই সনদ আগামী সংসদ অধিবেশনেই বাস্তবায়ন করতে হবে

প্রকাশ : 03 Jul 2026
জুলাই সনদ আগামী সংসদ অধিবেশনেই বাস্তবায়ন করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: গণসংহতি আন্দোলন-জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেছেন, জুলাই সনদ আগামী সংসদ অধিবেশনেই বাস্তবায়ন করতে হবে। আজ ৩ জুলাই ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত সমাবেশে এই কথা বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছে, যারা পার্লামেন্টে আছেন সকলের কাছে আহ্বান জানাই, আপনারা দ্রুততার সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমস্ত রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরে যে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে তাকে বাস্তবায়ন করুন।


সমাবেশ শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু। আগামী ১৬ জুলাই রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জেয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন; ১৯ জুলাই গণতন্ত্র মঞ্চসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বর্ষপূর্তিতে আলোচনা সভা, ছবি ও সিনেমা প্রদর্শনী; ৩১ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই সমাবেশ; ৪ আগস্ট শহীদ জুলফিকার শাকিলের স্মৃতিবিজড়িত মিরপুরে সমাবেশ ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও ৮ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা উৎযাপন এবং জুলাই পরবর্তী বৈষম্য ও নিপীড়ন বিষয়ে রাজনৈতিক ও প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অবস্থানের কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। একইসাথে মাসব্যাপী বিভাগীয় শহর, জেলা, উপজেলায় জিএসএর উদ্যোগে কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানান তিনি।


সমাবেশে জিএসএর নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচাইতে বড় গণঅভ্যুত্থান, ২৪ এর জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান। এখানে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, সকল ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সমস্ত ধরনের মানুষ এই সংগ্রামে শামিল হয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন, হিটলারের ফ্যাসিবাদকে সরাতে একটা বিশ্বযুদ্ধ লেগেছিল। ফলে বাংলাদেশের জনগণের এই অর্জনের মহিমা অনেক সুদূরপ্রসারী। এই অর্জনকে শুধুমাত্র শেখ হাসিনাকে বিদায় করায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শেখ হাসিনাকে বিদায় করে এখানে শেখ হাসিনা যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করেছিল তাকে বিদায় করা, বাংলাদেশে যাতে সেইরকম কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা আর ফিরে আসতে না পারে, সেটার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করা—এটা আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল, জনগণসহ পুরো বাংলাদেশের দায়িত্ব।


তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র কায়েমের ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে। একটা জবাবদিহিহীন ব্যবস্থা, এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থা বাংলাদেশে আসন গেঁড়ে বসেছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ইতিহাসের উপরে দখলদারিত্ব দিয়ে, মানুষের ভাবজগতের ওপরে আধিপত্য দিয়ে, ভয় দেখিয়ে, খুন করে, বাংলাদেশের মানুষের ওপরে জবরদস্তিমূলক শাসন কায়েম করে দিয়ে, তার ভোটাধিকারসহ সমস্ত অধিকার হরণ করে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। ফলে একটা সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রকে বদল করা আমরা আমাদের প্রথম কর্তব্য মনে করেছি। জুলাই সনদ বাংলাদেশে সেই সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্রকে চিরতরে বিদায় দেওয়ার দলিল।


তিনি আরও বলেন, এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচাইতে বেশি যারা শহীদ হয়েছেন তারা হচ্ছেন এদেশের শ্রমজীবী মানুষ। তাদের ন্যায্য অংশ ছাড়া এই অভ্যুত্থানের সাফল্য আমরা দাবি করতে পারি না। আমরা দেখেছি জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা কিভাবে সামনে এসে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লড়াইকে সামনে নিয়ে গেছেন। সেই নারীদের একেবারেই ব্যবস্থাগতভাবে এই ৮ই আগস্টের পর থেকে আস্তে আস্তে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদেরকে অবমূল্যায়নের জায়গায় নিয়ে আসা হয়েছে। নারীর নিপীড়নকারীদের ফুলের মালা দেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত যারা করেছেন তারা জুলাইকে কলঙ্কিত করার জন্য এটা করেছেন। আমরা মনে করি নারীর অধিকার, নারীর মর্যাদা, বৈষম্যহীনতা—এইটা ছাড়া জুলাই কার্যকরী হতে পারে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের যে জাতিবাদী ফ্যাসিবাদ, বাঙালি জাতিবাদী ফ্যাসিবাদ, তার পরিবর্তে যদি আজকে কোনো ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক ফ্যাসিবাদ—এটা যদি আসন গেঁড়ে বসে, তাহলে জুলাই সফল হতে পারে না।


তিনি বলেন, জুলাই সফল হতে হলে বাংলাদেশে একটা বহুমতের গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে, সকলের অধিকার রক্ষা করার দেশ হিসেবে, এখানে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের অধিকারের ভিত্তিতে এখানে সমস্ত ধরনের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য—এগুলাকে দূর করে একটা সত্যিকারের গণতান্ত্রিক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, একটা সত্যিকারের সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, একটা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যে কর্তব্য, বাংলাদেশের জাতীয় পুনর্গঠনের যে কর্তব্য, সেই কর্তব্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। 


জিএসএর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দিন পাপ্পুর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমী, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাচ্চু ভূঁইয়া, শ্রমখাত বিষয়ক সম্পাদক আলিফ দেওয়ান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক দীপক কুমার রায়, অর্থ সম্পাদক: অপরাজিতা চন্দ, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পাদক, রেক্সোনা পারভীন সুমি, জেন্ডার বিষয়ক সম্পাদক: পপি রানী সরকার, দপ্তর সম্পাদক: গোলাম মোস্তফা সহ দলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকার বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ।


সম্পর্কিত খবর

;