স্টাফ রিপোর্টার: ঠাকুরগাঁওয়ের এক রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। ছাত্রজীবনে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা। এরপর অর্থনীতির শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব। এবার দেশের রাষ্ট্রপতি পদেও দলীয় প্রার্থী হিসেবে সামনে এসেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০২৬ সালের আগস্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর নাম আলোচনার কেন্দ্রে আসে এবং সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বিএনপি তাঁকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায়। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ এবং ঠাকুরগাঁও থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ছিলেন বিএনপির রাজনীতিবিদ, যিনি ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে ছোটবেলা থেকেই ফখরুলের পারিবারিক পরিবেশে রাজনীতি ও জনসেবার প্রভাব ছিল।
শিক্ষাজীবনে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেই তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তার শুরু।
ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হন। সংগঠনের এসএম হল ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেপ্তার ও কারাবরণের কথাও তাঁর সরকারি জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষকতাও ছিল তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। ঢাকা কলেজের পাশাপাশি দিনাজপুর কলেজ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজেও অর্থনীতি পড়ানোর তথ্য বিভিন্ন জীবনীভিত্তিক প্রতিবেদনে পাওয়া যায়।
শিক্ষকতার বাইরে সরকারি দায়িত্বেও কাজ করেছেন ফখরুল। বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সঙ্গেও কাজ করেন। ১৯৭৯ সালের শেষদিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১৯৮২ সালে বারীর পদত্যাগ পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে পুরোপুরি প্রবেশ করেন। তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের উল্লেখযোগ্য প্রথম ধাপ ছিল স্থানীয় সরকার। ১৯৮৮ সালের ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। অর্থাৎ জাতীয় রাজনীতির শীর্ষে যাওয়ার আগে তিনি তৃণমূল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাঁকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। ধীরে ধীরে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান শক্ত হয়। ২০০৯ সালের বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালের মার্চে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন।
জাতীয় সংসদে তাঁর প্রবেশ ঘটে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি সংসদ সদস্য হন। এরপর বিএনপি সরকারের সময়ে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। নির্বাচন কমিশনের ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী তিনি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পান।
২০২৬ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির মহাসচিব। সরকারি ও রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তাঁর জীবনীতে এই দায়িত্বগুলোর উল্লেখ রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর নাম আলোচনায় আসে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর। প্রথমদিকে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিল। মির্জা ফখরুল নিজেও তখন জানিয়েছিলেন, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্ধারণ করবে।
১ আগস্ট বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল নিজেই এ তথ্য সাংবাদিকদের জানান।
এরপর ১৩ আগস্ট ২০২৬ বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন তিনি—পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব ও বর্তমান মন্ত্রী হওয়ার পর এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম সামনে এসেছে।
তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট থাকা জরুরি—দলীয় মনোনয়ন পাওয়া এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া এক বিষয় নয়। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর।
৭৮ বছর বয়সী মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ধাপে ধাপে শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে শুরু, এরপর শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্ব, জাতীয় সংসদ, মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এবং বিএনপির দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক নেতৃত্ব—এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ অধ্যায় এখন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী হওয়া। তাঁর সামনে এখন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পদে যাওয়ার সম্ভাবনা।
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ৫৩ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টা ৫ ম ...
স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্ব ...
ডেস্ক রিপোর্টার: চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন দেশের ১৩৫ জন নাগরিক। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দেওয়া এক নাগরিক বিবৃতিতে তারা চা শ্রমিকদ ...
রংপুর অফিস: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই ভোটের ফল মেনে সরকার গঠন করা হ ...
সব মন্তব্য
No Comments