রাসিকের সাবেক মেয়র লিটনের ব্যক্তিগত পিএস'সহ আটক ২৪

প্রকাশ : 10 Nov 2024
রাসিকের সাবেক মেয়র লিটনের ব্যক্তিগত পিএস'সহ আটক ২৪

পাভেল ইসলাম মিমুল রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) বিপুল কুমার সরকারসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজশাহী জেলা ও মহানগর পুলিশের মিডিয়া উইং দুপুরে এই তথ্য জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে জেলার বিভিন্ন থানায় ১০ জন এবং মহানগরের থানাগুলো থেকে ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মিডিয়া উইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল রাতে সাবেক মেয়র লিটনের ব্যক্তিগত সহকারী বিপুলকে নগরের রানীনগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিপুল সিটি কর্পোরেশনের  স্থায়ী কর্মকর্তা। তিনি ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের সঙ্গে কাজ করতেন।


এদিকে নগরের সাত নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম এবং একই ওয়ার্ডের নেতা মোক্তার হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য অপরাধে নগরের থানাগুলোতে আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।


অপরদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম পচাকে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ফারুক হোসেন গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


রোববার (১০ নভেম্বর) দুপুরে নগরের চণ্ডিপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


নগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফারুক হোসেন বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর বোয়ালিয়া থানায় দায়ের হওয়া একটি নাশকতার মামলায় শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বোয়ালিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।’


শহিদুল ইসলাম ২০০৮ সাল থেকে পরপর তিনবার রাসিকের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীসহ দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে কাউন্সিলর পদ হারান শহিদুল ইসলামও।


এলাকাবাসী জানান, শহিদুল ইসলাম একসময় রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য ছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ‘কাছের লোক’ হয়ে উঠেছিলেন। শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইজারা ছাড়াই ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত জিয়া শিশু পার্ক দখল করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। 


এছাড়া, খায়রুজ্জামান লিটনের মন জয় করতে শহিদুল ইসলাম এলাকায় আওয়ামী লীগের সব কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের প্রার্থীও ছিলেন। সর্বশেষ রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সম্মেলন উপলক্ষে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ নগরের বিভিন্ন স্থানে সভাপতি প্রার্থী নাহিদ আক্তার নাহানের পক্ষে  বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগিয়েছিলেন তিনি। গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে বড় বড় মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের মিছিলে যোগ দিতেন তিনি বলেও জানান এলাকাবাসী।

জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলায় মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী কি না সেটি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। 


গতকাল গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।









































সম্পর্কিত খবর

;