জাতীয় নির্বাচনে ২৯২ আসনের ফলাফলে

বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮ আসনে নির্বাচিত

প্রকাশ : 13 Feb 2026
বিএনপি ২০৯, জামায়াত ৬৮ আসনে নির্বাচিত

স্টাফ রিপোর্টার: কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলে। রাজধানীসহ সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।


নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিশেষ কারণে একটি আসনে ভোট স্থগিত থাকায় ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রাপ্ত ফলাফলে ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২০৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি, খেলাফত আন্দোলন ১টি  এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি আসনে জয় পেয়েছে।  স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে বিজয় অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটেও ‘জয়যুক্ত’ ফলাফল এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।


ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন রাজনৈতিক দলের মনোনীত এবং ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নেয়। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৩ জন। প্রতি আসনে গড়ে ৬ থেকে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যা নির্বাচনে বহুমাত্রিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।


নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড এবং বিএনসিসি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মাঠপর্যায়ে ২ হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট তদারকিতে ছিলেন।


নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন কিছু অভিযোগ ছাড়া সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ভোটার উপস্থিতি সন্তোষজনক ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। গণভোটের ফলাফল ও নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হবে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনের ফল দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। এখন দৃষ্টি নতুন সরকারের গঠন ও তাদের কর্মপরিকল্পনার দিকে।

সম্পর্কিত খবর

;