মানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর মামলা পুনঃতদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ

প্রকাশ : 02 Apr 2026
মানবতাবিরোধী অপরাধ: ইনুর মামলা পুনঃতদন্ত ও সাক্ষী তলবের আবেদন খারিজ


স্টাফ রিপোর্টার: চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর করা পুনঃতদন্ত (রি-ইনভেস্টিগেশন) ও সাক্ষী পুনঃজেরার (রিকল) আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনাল আবেদন দুটিকে ‘ফ্রিভোলাস’ (অসার) আখ্যা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার কৌশল হিসেবে মন্তব্য করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন যুক্তিতর্ক শুরুর আগে আসামিপক্ষ পৃথক দুটি আবেদন দাখিল করে—একটি পুনঃতদন্তের জন্য এবং অন্যটি প্রসিকিউশনের দুই সাক্ষী, পিডব্লিউ-২ তানভীর হাসান জোহা ও পিডব্লিউ-১০ তদন্তকারী কর্মকর্তাকে পুনরায় জেরা করার জন্য। এর বিরোধিতা করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ফৌজদারি মামলায় রি-ইনভেস্টিগেশন প্রযোজ্য নয় এবং আসামিপক্ষ মামলাটিকে ‘নিউজ আইটেম’ করার উদ্দেশ্যে এমন আবেদন করেছে।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ‘মোবাশ্বের আলী বনাম রাষ্ট্র’ মামলার রেফারেন্স টেনে বলেন, পুনঃতদন্ত না হলেও অধিকতর তদন্ত (ফার্দার ইনভেস্টিগেশন) হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আদালত আবেদন দুটি খারিজ করেন এবং যুক্তিতর্ক শুরু করার নির্দেশ দেন।

আবেদন খারিজের পর আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তবে তা শেষ না হওয়ায় সময়ের আবেদন করলে ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে প্রসিকিউটরদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সিসিটিভি ফুটেজ ও হার্ডড্রাইভ সংক্রান্ত বিতর্ক এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আইনজীবী সিফাত মাহমুদ বলেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের ঘটনাবলি সংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়ায় সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও তার টিমের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এবং এতে স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) থাকতে পারে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের একটি উদাহরণ টেনে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার বিভিন্ন পর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

একই বিষয়ে অপর আইনজীবী আবুল হাসান বলেন, মামলার সাক্ষী ও প্রসিকিউশন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং অভিযোগের কারণে সাক্ষীদের পুনরায় জেরা করা প্রয়োজন ছিল।

উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যাসহ মোট আটটি অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় হাসানুল হক ইনুকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে তার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

এর আগে গত ১১ মার্চ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ২ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়েছিল। ইনু ইতোমধ্যে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ‘কাল্পনিক’ ও ‘বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের এ আদেশের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সম্পর্কিত খবর

;