বৈরুত যাওয়া হলো না !!

প্রকাশ : 23 Oct 2024
বৈরুত যাওয়া হলো না !!

রুহিন হোসেন প্রিন্স:

১.

বিশ্বের কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টি গুলোর ২৪ তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হওয়ার কথা ছিল। 

আজ ২৪ শে অক্টোবর ২০২৪, ছিল ওয়ার্কিং কমিটির সভা। 

২৫ ,২৬ ও ২৭ অক্টোবর ২০২৪ ছিল আন্তর্জাতিক সম্মেলন।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ওয়ার্কিং কমিটিরও সদস্য ।

ওই সম্মেলনে পার্টির পক্ষ থেকে আমার যোগদানের কথা ছিল। 

এবারের সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়( থিম)  ছিল --

"পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংগ্রামকে শক্তিশালী করতে, ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থনে এবং এর প্রতিরোধের জন্য। 

জাতীয় ও সামাজিক মুক্তির জন্য, প্রগতি ও সমাজতন্ত্রের জন্য।"


২.

লেবাননের কমিউনিস্ট পার্টি ছিল এবারের এই সম্মেলনের আয়োজক।

সভার আমন্ত্রণ পত্রে কয়েক মাস আগে তারা জানিয়েছিলেন,

"এই সময়টি আমাদের পার্টির শতবর্ষ উদযাপনের সাথে মিলে যায় এবং এটি আমাদের পার্টির রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সংহতির সুযোগ করে দেবে।  সম্মেলন একটি ব্যতিক্রমী সময়েও আহ্বান করা হয়েছে,যেখানে লেবাননের দক্ষিণ সহ আমাদের অঞ্চলের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী আগ্রাসন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গাজা এবং সমগ্র ফিলিস্তিনে ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। অতএব, বৈঠকের একটি ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক ও সংহতির তাৎপর্য রয়েছে এবং লেবাননে এই সম্মেলনটি বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট এবং শ্রমিক আন্দোলনের আন্তর্জাতিক সংহতি এবং সমর্থনের অভিব্যক্তি হিসাবে আসবে।"


৩.

লেবাননে ইসরাইলি বর্বর হামলার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে । 

এটাই বাস্তবসম্মত। প্রতিদিন আমরা বৈরুতে ইজরাইলি ধ্বংসযজ্ঞ দেখছি। এর বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টি এবং শান্তিকামী মানুষ প্রতিবাদ করছে। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী মদদপুস্ট ইসরাইল তার বর্বরতা বন্ধ করে নি।


৪.

প্রথমত রাজনৈতিক কারণে পৃথিবীর অনেক জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হলেও বৈরুতে যাওয়া হয়নি। লেবাননের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের সাথে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা হয়েছে। তাদের লড়াকু সংগ্রামী ইতিহাস আমরা জেনেছি। অনুপ্রাণিত হয়েছি। 

সেই ছোটবেলা থেকে বৈরুতের নাম শুনলেই বারুদের ছবি ভেসে উঠতো। বৈরুত মানে যেন যেকোনো সময় যুদ্ধাবস্থা আর ধ্বংসযজ্ঞ। 

এবারেও বৈরুতের সম্মেলনে যোগদানের কথা উঠায় অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, বলেছিলেন , "যে যুদ্ধাঅবস্থা চলছে এর মধ্যে যাবেন ?"

নানা বিবেচনায় পার্টির পক্ষ থেকে এই সম্মেলনে আমার যোগদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয় এবং আয়োজকদের জানিয়ে দেওয়া হয়। এবিষয়ে আয়োজকরাও উৎসাহিত ছিলেন বলে জানিয়েছিলেন।

আমি আশা করেছিলাম ছোটবেলা থেকে নাম শোনা বৈরুত কে দেখা হবে, শত বর্ষের লেবাননের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাস ঐতিহ্য জানা হবে। সেটা এবার হচ্ছে না।


৫.

সর্বশেষ কিউবাতে বিশ্বের কমিউনিস্ট এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। এবারও দেখা হবে। সারা বিশ্বের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে, বিভিন্ন দেশে কমিউনিস্ট পার্টি গুলোর আন্দোলন সম্পর্কে জানা হবে। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, পুঁজিবাদী শোষেনের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র, সমাজতান্ত্র তথা  মানব মুক্তির সংগ্রামকে অগ্রসর করতে আমরা পরস্পরের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও কর্মপন্থার কথাও বিবেচনা করতে পারব। 

ওঠি হয়তো একসাথে বসে করা গেল না। কিন্তু আমাদের সংগ্রাম চলবে। 

"মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ" গড়ার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। এজন্য আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদার করা হবে।


৬.

সম্প্রতি বাংলাদেশে গণভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে জন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে তা নস্যাৎ করতে গণতন্ত্র বিরোধী, সাম্প্রদায়িক, সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি তৎপর রয়েছে। 

এর বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তির ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ও গণজাগরণ গড়ে তুলতে আমরা আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত রাখবো। 


৭.

মানুষ ও প্রকৃতির মুক্তির সংগ্রাম অগ্রসর করতে বিশ্বের কমিউনিস্ট ও ওয়ার্কার্স পার্টি সমূহের মৈত্রী বন্ধন আরও দৃঢ় হবে -এটিই প্রত্যাশা ।


-লেখক: সাধারণ সম্পাদক,  বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি। 

২৪ অক্টোবর ২০২৪, ঢাকা, বাংলাদেশ।

সম্পর্কিত খবর

;