অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আদেশ ‘প্রতারণার দলিল’: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : 31 Mar 2026
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আদেশ ‘প্রতারণার দলিল’: সংসদে  স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা সংবিধান সংস্কার-সংক্রান্ত আদেশকে “অন্তহীন প্রতারণার দলিল” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই আদেশের কোনো আইনি ভিত্তি নেই এবং এটি শুরু থেকেই অবৈধ।


মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে “জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন” বিষয়ক নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন।


মন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত নোটিশের মূল বিষয় ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান। তিনি প্রশ্ন তোলেন—রাষ্ট্রপতি কেন এই অধিবেশন আহ্বান করেননি। তার মতে, সংশ্লিষ্ট আদেশটি আইনগতভাবে বৈধ নয় এবং এটি “ভয়েড অ্যাব ইনিশিও”—অর্থাৎ শুরু থেকেই বাতিলযোগ্য।


রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিলের পর রাষ্ট্রপতির আদেশ জারির ক্ষমতা কার্যত সীমিত হয়ে যায়। ফলে পরবর্তীতে জারি করা এমন আদেশের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ।


গণভোট নিয়েও সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যালটে চারটি প্রশ্ন একত্রে দিয়ে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যা সঠিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রশ্নের সবগুলোই “জুলাই জাতীয় সনদ”-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।


মন্ত্রী আরও বলেন, একটি “অস্তিত্বহীন পরিষদের” সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের কোনো আইনি বিধান নেই এবং এ ধরনের কার্যক্রম সংবিধানের লঙ্ঘন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এখতিয়ার নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।


তবে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, তার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) “জুলাই জাতীয় সনদ”-এর প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সংস্কারের পক্ষে। কিন্তু তা হতে হবে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে, কোনো বিতর্কিত বা অবৈধ আদেশের মাধ্যমে নয়।


রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের লক্ষ্যে তিনি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের নিয়ে একটি “সংবিধান সংশোধন বিশেষ সংসদীয় কমিটি” গঠনের আহ্বান জানান। এই কমিটির মাধ্যমে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি।


শেষে তিনি বলেন, “সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান সংশোধনী আনতে হবে—এটাই জনগণের প্রত্যাশা।”

সম্পর্কিত খবর

;