পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যা ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ

প্রকাশ : 02 Jun 2026
পল্লবীতে ধর্ষণের পর শিশু হত্যা ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ


স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার দুই জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের উপস্থিতিতে ষোল জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সকাল সাড়ে দশটার দিকে শুরু হয়ে মাঝে বিরতি দিয়ে বেলা সোয়া তিনটা পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ চলে। আগামীকাল বুধবার আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন আদালত।


ষোল জন সাক্ষীর মধ্যে রয়েছেন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বোন, ফুফু ও চাচা। প্রথম সাক্ষী হিসেবে বাদী ও নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা অশ্রুসিক্ত নয়নে আদালতে বক্তব্য দেন। অসুস্থ অবস্থায় হাতে ক্যানুলা লাগানো অবস্থায় তিনি হাসপাতাল থেকে এসে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ সাক্ষীদের জেরা করেন।


মামলার প্রধান আসামি রিকশা মেকানিক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। সোমবার এক জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ গঠন করে বিচার শুর আদেশ দেন। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর দুই আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।


মামলার এজাহার অনুযায়ী গত উনিশ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে প্রতিবেশী সোহেল রানা কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নেন। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার শিশুটিকে ঘরে ডেকে আনেন বলে অভিযোগ। পরে শিশুটিকে ধর্ষণের পর অপরাধ ঢাকতে গলা কেটে হত্যা ও লাশ টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনার পরদিন পল্লবীর এগারো নম্বর সেকশনে সোহেলের বাসা থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির কাটা মাথা বাথরুমের বালতির ভেতর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।


হত্যাকাণ্ডের পরদিন বিশ মে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। চব্বিশ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান সাতচল্লিশ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। অভিযোগপত্রে সতেরো জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় দ্রুত বিচারের দাবির মুখে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।


এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে। আসামিদের কোনো ব্যক্তিগত আইনজীবী নেই। ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশন এই নৃশংস ঘটনার আসামিদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আদালতে সোহেল রানা সাংবাদিকদের দাবি করেন মিরপুর এগারোর ডলার নামের এক ব্যক্তি ধর্ষণ ও হত্যা করেছে। তিনি শুধু লাশ গুমের চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করেন। তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি দোষী কিনা। সোহেল রানা আদালতে স্ত্রীকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।


এই মামলার ঘটনা সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা বন্ধে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

সম্পর্কিত খবর

;