খিলগাঁও মডেল কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

প্রকাশ : 01 Mar 2025
খিলগাঁও মডেল কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে  শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার: খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা  কলেজে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ইমাম জাফর এর  পদত্যাগ দাবি করে  বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। আজ শনিবার কলেজ প্রাঙ্গণে  বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।


ফ্যাসিবাদের দোসর আওয়ামী প্রেতাত্মা, দালাল প্রিন্সিপালের পদত্যাগের দাবিতে  সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ, খিলগাঁও মডেল কলেজ লেখা ব্যানার নিয়ে শিক্ষার্থীরা কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা কলেজ সংলগ্ন খিলগাঁও চৌরাস্তা সহ বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে কলেজে এসে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন পালন করে। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 


শিক্ষার্থীরা বলেন, অধ্যক্ষ কৃষকলীগের সহসভাপতি পদ নিয়ে ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর সময় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। তার নিয়োগ নিয়ে নানা অনিয়ম থাকা সত্বেও তাকে  নিয়োগ দেওয়া হয় শুধু দলীয় বিবেচনায়। পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে ইমাম জাফর কলেজে যোগদান করে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন। এরপর থেকেই সে দলবাজিকে প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। ৫ আগষ্টের পরও কলেজের যেসব শিক্ষক  ফ্যাসিষ্ট আমলে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করে চলেছিলেন সেই সব  ফ্যাসিষ্ট সহযোগিদের নিয়েই বর্তমানে  কলেজ চালাচ্ছেন। তাদেরকে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের পৃষ্ঠপোষকতা অযোগ্য আওয়ামী লীগ সমর্থিত শিক্ষকদের জন্য শিক্ষার মান এবং সুশাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে, চিন্তিত শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে তাদের দাবি পুনর্ব্যক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।


শিক্ষার্থীরা জানান, অধ্যক্ষের কার্যে ধারাবাহিকতা ও স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে কলেজের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া, অভিযোগ উঠেছে যে অধ্যক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থনকারী শিক্ষকদেরকে উচ্চ পদে স্থান দিয়ে অন্য শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্য করছেন। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হয়। 


তারা অভিযোগ করেন, বিগত দিনে সাবের হোসেন চৌধুরী মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি ছিলেন জহিরুল আলম। সে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। তাকে শিক্ষকদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে  শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন না করে স্থানীয়  সাবেক সংসদ সদস্য নিজেই  তার খেয়ালখুশী মতো মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। সেই শিক্ষককে  অধ্যক্ষ কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনের দায়িত্ব দেন। যার ফেইজবুকে  পতিত স্বৈরাচারের গুণকীর্তন ও

পিতার ছবি সম্বলিত পোষ্ট  থাকতো  নিয়মিত। 


তারা আরও অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ বর্তমান এডহক ভিত্তিক কলেজ পরিচালনা পরিষদকে সুকৌশলে ধোঁকা দিয়ে বিগত দিনের স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলার পলাতক আনিস এর ভাই কলেজ শিক্ষক আরিফের নেতৃত্ব যারা কলেজে আধিপত্য  বিস্তার করেছেন তাদেরকেই অধ্যক্ষ নানা কৌশলে বিভিন্ন কলেজ কমিটিতে প্রাধান্য দিয়ে চলেছেন। তাদেরকে নানাভাবে সহযোগিতা করছেন। তারা বহাল তবিয়তে কলেজে তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। 


বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান এবং দাবির ব্যানার হাতে নিয়ে কলেজের প্রাঙ্গণে  উপস্থিত হন। 


তারা বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ একজন ফ্যাসিবাদের দোসর। আওয়ামী দলীয় লোক তাকে দিয়ে কলেজ পরিচালনা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না। তার নিয়োগ অনিয়ম নিয়ে সাবেক একজন কলেজ শিক্ষক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে  আবেদন করেন। তাও ধামাচাপা দিয়ে তাকে কলেজ অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। একে আমরা মেনে নিবো না।  অধ্যক্ষ পদত্যাগের দাবিতে আমাদের আন্দোলন আরও বেগবান হবে। অন্যায়কে ছাড় দেওয়া হবে না।


তারা জানান, কলেজের গভর্নিং বডির বিদুৎসাহী সদস্য মাহফুজুর রহমান মাহফুজ এর সাথে কলেজ অধ্যক্ষের বিরোধ চরমে। ওপরে ওপরে সুসম্পর্ক দেখানোর ভান করলেও কলেজ অধ্যক্ষ তাকে ইগনোর  করে চলেন। কোন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন না। অধ্যক্ষ তার ইচ্ছা মতো স্বৈরাচারী কায়দায় কলেজ চালান। তার নিজস্ব ফ্যাসিবাদী সহযোগীদের নিয়ে  কলেজের সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করেন।


মান সম্মত শিক্ষা এবং সবার জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ শিক্ষণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা আশা করছেন, প্রশাসন শীঘ্রই তাদের দাবির প্রতি গুরুত্ব দেবে এবং পরিস্থিতির উন্নতির জন্য উদ্যোগী হবে।


সম্পর্কিত খবর

;