মাগুরায় শিশু ধর্ষণে জড়িতদের বিচার দাবি করেছে মহিলা ফোরাম

প্রকাশ : 07 Mar 2025
মাগুরায় শিশু ধর্ষণে জড়িতদের বিচার দাবি করেছে মহিলা ফোরাম


ডেস্ক রিপোর্ট: সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী আজ এক যৌথ বিবৃতিতে মাগুরায় ৮ বছরের শিশু ধর্ষণের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।  

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মাগুরা সদরে বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষনের শিকার হয়েছে ৩য় শ্্েরণিতে পড়া শিশুটি। অচেতন অবস্থায় প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর মেডিকেল এবং আজ ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বোনের শ^শুর হিটু শেখকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ৪-৫ মাস আগে বিয়ে হওয়া বড় বোনকেও তার শ^শুর বিভিন্ন সময় উত্যোক্ত করত। এলাকাবাসী জানিয়েছে এই লোকের বিরুদ্ধে একাধিকবার এরকম ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ আছে। পরবর্তীতে সন্দেহের বাইরে নয় বলে শিশুটির দুলাভাইকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।


বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘একজন মানুষ কতখানি বর্বর হলে নিজের ছেলের স্ত্রীকে যৌন নির্যাতনের চিন্তা করতে পারে এবং তার ৮ বছরের ছোট বোনকে ধর্ষন করতে পারে বা স্ত্রীকে পাশে ঘুমন্ত রেখে কোন স্বামী একজন শিশুকে ধর্ষন করতে পারে! কোনভাবেই কি আমাদের এই সমাজকে সভ্য সমাজ বলার মতো পরিস্থিতি আছে? সমাজে নারীকে শুধু মাত্র ভোগ্য পণ্য হিসেবে দেখার মানসিকতা তৈরি করা হয়েছে। সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকাকে অস্বীকার করা হয়। একজন নারী তার ঘর পরিচালনা করে কিন্তু সেই কাজের স্বীকৃতি নাই। একজন নারী শ্রমিক হিসেবে কাজ করে কিন্তু সেখানে তার সমমর্যাদা নাই। পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব পালন করলেও সে পুরুষের সিদ্ধান্তের বাইরে মতামত দিতে পারে না। আর দেশের প্রয়োজনে কাজ করলে সে সবার আগে পরিত্যাজ্য। সকল গণআন্দোলনে নারীর ভূমিকা অপরিসীম কিন্তু আন্দোলন শেষে তাকে ঘরবন্দী করে সেই ভূমিকাকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। সমাজে তার একমাত্র পরিচয় সে পুরুষের ভোগ চরিতার্থ করবে! এই সমাজ ব্যবস্থায় এরকম হিটু শেখই তো তৈরি হবে! নয়তো বড় বোন যখন শ^শুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিল তখন তাকেই বুঝিয়ে শুনিয়ে আবার শ^শুর বাড়ি পাঠানো হলো কিন্তু ঐ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হলো না কেন? এই শিশু ধর্ষনের জন্য প্রত্যক্ষভাবে একজন দায়ী হলেও অন্যরা এবং এই মানসিকতা তৈরির জন্য দায়ী যে ব্যবস্থা তা কি দায়মুক্তি পেয়ে যেতে পারে?’


নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘অবিলম্বে পাড়ায় পাড়ায় মাদক ও পর্ণোগ্রাফি বন্ধ করতে হবে। নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা বন্ধ করতে হবে। ওয়াজ মাহফিলের নামে পাড়ায় পাড়ায় যে নারী বিদ্বেষী মনোভাব ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে। পরিবার ও সমাজে নারীর ভূমিকা ও শ্রমের স্বীকৃতি দিতে হবে। নারীর পোশাক ও চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন করা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার দ্রæত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নারীর সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যে সমাজব্যবস্থা ও মানসিকতার জন্য এরকম ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে তা পরিবর্তনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ধর্ষনকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি নারীর প্রতি এই সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহŸান জানান।


সম্পর্কিত খবর

;