শ্রম ভবনের সামনে শ্রমিকদের লাগাতার বিক্ষোভ অব্যাহত

প্রকাশ : 28 May 2024
শ্রম ভবনের সামনে শ্রমিকদের লাগাতার বিক্ষোভ অব্যাহত

স্টাফ রিপােটার: গাজীপুরের ড্যানিস নিটওয়ারের সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র উদ্যোগে ঢাকার বিজয়নগরস্থ শ্রম ভবনের সামনে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
আজ ২৮ মে ২০২৪, মঙ্গলবার, সকাল ১১টা হইতে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি শ্রমিক নেতা ইদ্রিস আলী। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি বলেন, মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ দায়িত্বশীল হলে এতদিন শ্রমিকদের পাওনা না দিয়ে, না খাইয়ে মারতেন না। শ্রম প্রতিমন্ত্রীসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা সবাই মালিকদের স্বার্থ রক্ষার্থেই ব্যস্ত। তাই তিনি শ্রমিকদের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের ঘোষণা দেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রুহুল আমিন বলেন, ২৫ এপ্রিলের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি মোতাবেক ৫ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি হিসেবে গণ্য হওয়ায় শ্রম আইন অনুসারে সকল শ্রমিক কর্মচারী এপ্রিল মাসের পূর্ণ মজুরি প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও কিছু সংখ্যক শ্রমিককে আংশিক মজুরি দিয়ে মজুরি দেয়া হয়েছে বলে মালিকপক্ষ মিথ্যাচার করছে।
গত ঈদের ছুটি চলাকালীন শ্রমিকদের না জানিয়ে এবং শ্রমিকদের আইনানুগ পাওনা না দিয়েই গত ১৫ এপ্রিল অন্য মালিকের নিকট কারখানা বিক্রির চুক্তি করেছে। রাতের আঁধারে জেনারেটসহ বেশ কিছু মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে গেছে। মালিকের ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী দিয়ে শ্রমিকদের হুমকি-ধামকি দেয়া হয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় প্রধানমন্ত্রী, শ্রম প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আবেদন করা সত্ত্বেও অদ্যবধি কোনো প্রকার সমাধান পাওয়া যায়নি। গত ৬ মে থেকে একটানা ৯ দিন লাগাতার অবস্থান, সমাবেশ ও লাল পাতাকা মিছিলসহ নানাবিধ কর্মসূচি পালন করার ফলে কলকারখানা অধিদপ্তর মালিকের কথামতো ২৬ মে পর্যন্ত সময় চায় এবং ২৬ মে ত্রিপক্ষীয় সভা আহ্বান করেন। ২৬ মে সভায় মালিক অনুপস্থিত হয়ে সরকারকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। অনাহারী শ্রমিকরা অনিশ্চিতায় পড়ায় আজ থেকে লাগাতার বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হলো। কাজী রহুল আমিন সরকার ও বিজিএমইএকে বলেন, যদি অতিসত্ত্বর মালিককে ধরে এনে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা না হয় তাহলে দেশের অপরাপর শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে আরও তীব্র লড়াই করে দাবি আদায় করা হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
অবস্থান কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন, জালাল হাওলাদার, জয়নাল আবেদীন, সোহেল রানা, আফরিন আক্তার, লাইলী বেগম, মনির হোসেন প্রমুখ।

সম্পর্কিত খবর

;