ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ১০ জনের মৃত্যু

প্রকাশ : 27 May 2024
ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ১০ জনের মৃত্যু

রফিকুল ইসলাম সুজন: ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে উপকূল এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলোচ্ছ্বোাসে উপকূল প্লাবিত হওয়ায় ঘরবন্দি রয়েছে সাধারণ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে আন্তত ১০ জনের। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় কয়েক জেলার মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রিমালের প্রভাবে সারাদেশে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে রাজধা্নীর রাস্তাঘাট, অলিগলি প্লাবিল রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঝূর্ণিঝড় 'রিমাল' আরো উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মোংলার দক্ষিণপশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করেছে। উপকূল অতিকেম করে রিমাল কয়রা, খুলনা হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর ও দুর্বল হয়ে স্থল গভীর নিন্মচাপ হিসেবে যশোর হয়ে আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশঃ বৃষ্টিপাত ঝড়িয়ে স্থল নিন্মচাপে পরিনত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ৯০ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অতিভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয় থাকতে বলা হযেছে।

বরিশাল অফিস জানিয়েছে, বরিশাল বিভাগের সব নদনদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে শতাধীক গ্রাম তলিয়ে গেছে।
ভোলায় রিমালের আঘাতে শিশুসহ তিন জন মারা গেছেন। নিহতরা হলেন মনেজা খাতুন (৫৪), জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০) ও মাইশা (৪)।
নিহত মানেজা লালমোহন উপজেলার চরউমেদ গ্রামের আব্দুল কাদেরের স্ত্রী।নহত শিশু রাইশা দৌলতখান উপজেলায় ২নং ওয়ার্ডে গাছ উপড়ে পড়লে গাছ চাপায় নিহত হন। মাইশা প্রতিবন্ধী মমিনের মেয়ে। অপরদিকে বোরহানউদ্দীন উপজেলার সাচড়ায় জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজন ঘরচাপায মারা যান।
ঝড়ে ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অর্ধশতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বেড়িবাঁধ ধসে প্লাবিত হয়ে ৩০ গ্রামের মানুষ পানি বন্দী রয়েছে। জেলাবাসী বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। গবাদিপশু ও মাছ পানি স্রোতে ভেসে গেছে।
রিমালের প্রভাবে বরগুনায় বিদ্যুৎ নেই, ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। পায়রা ও বিষখালী নদীর তীরের ২০ গ্রাম জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত রয়েছে।
এছাড়া সদর উপজেলাসহ পাথরঘাটা, আমতলী ও বেতাগী উপজেলায় ২ হাজারের বেশী গাছপালা উপড়ে গেছে। বিধ্বস্ত হয়েছে শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি।
ঝড়ে পটুয়াখালী কলাপাড়ার কাউয়ারচরে প্লাবিত এলাকা থেকে বোনকে রক্ষা করেত গিয়ে মো. শরীফুল ইসলাম নামে একজন মারা যায়। পটুয়াখলীর নদনদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় রাস্তাঘাটসহ নিন্মাঞ্চল তলিয়ে গেছে।কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালির বেশ কিছু বেড়ীবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। কূয়াকাটা-পটূয়াখালী মহাসড়কে গাছপালা উপড়ে পড়ে যোগায়োগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
রিমালের তান্ডবে সোমবার বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে দেয়াল ধসে দুইজনের মুত্যু হয়েছে। ঘটনায় আহত হয়েছে আরও একজন।
জৈলার সদর উপজেলাসহ উজিরপুর, বানারীপাড়া, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বাখরগহ্জ উপজেলারয় ব্যাপক গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে । নিন্মাঞ্চল প্লাবিত রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা/জড়ো হ্ওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
খুলনা অফিস জানিয়েছেন, ভারী বর্ষনে নগরী প্লাবির রয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরে নাপিতখালী আশ্রয়কেন্দ্র যাওয়ার পথে শওকত মোড়ল নামে একবৃদ্ধা মারা গেছেন।
সাতক্ষিরা, বাগেরহাটের বিভিন্ন উপজেলা জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত রয়েছে। মাছের ঘেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চট্টগ্রাম অফিস জানিয়েছেন, নগরীর বায়োজিদ থানার টেক্সাইল এলাকায দেয়াল চাপা পড়ে সাইফুল ইসলাস নামে এক পথচারী মারে গেছেন।

রাজশাহী অফিস জানিয়েছে, রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও সে সময় মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়াও সোমবার (২৭ মে) ভোর ৬টা পর্যন্ত ১১ মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আনোয়ারা বেগম জানান, সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। ভোর ৬টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত ২২ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। এরকম আবহাওৃয়া সোমবার সারাদিন থাকবে। বুধবার থেকে তাপমাত্রা আবারও স্বাভাবিক হবে।
সোমবার (২৭ মে) সকাল থেকে ঝড়ো বাতাসসহ বৃষ্টি হচ্ছে। কখনও গুঁড়িগুঁড়ি আবার কখনও মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গোটা রাজশাহী অঞ্চলে এরকম হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহওয়া অফিস।

সম্পর্কিত খবর

;