স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
মঙ্গলবার, ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি অভিযোগে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের হয়। নিহতরা হলেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, আসামি হাসানুল হক ইনু আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই এক ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের ‘জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের উসকানি দেন ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪-দলীয় জোটের বৈঠকে ‘শুট অ্যাট সাইট’ নীতির সিদ্ধান্তে উপস্থিত থেকে তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন। এছাড়া আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা তৈরি করে কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে তাদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আন্দোলনবিরোধী সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় দমননীতিকে সমর্থন করার অভিযোগও আনা হয়।
এ মামলায় হাসানুল হক ইনু একমাত্র আসামি এবং রায় ঘোষণার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন ৩/২০২৫ নম্বর আরেকটি মামলায় হাসানুল হক ইনুসহ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জন আসামি রয়েছেন।
মামলায় নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ৬৪ পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন হাসানুল হক ইনু। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার নামে আনীত সমস্ত অভিযোগ কাল্পনিক ও পুরোপুরি বানোয়াট। যে হত্যাকাণ্ডের জন্য আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, সেই ঘটনার সঙ্গে আমি এবং আমার দল জাসদের বিন্দুমাত্র যোগাযোগ নেই।’ আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী যুক্তিতর্কে দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সময় ইনু কুষ্টিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি সংসদ সদস্যও ছিলেন না।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সঠিক রায় দিয়েছেন। এটি জুলাই গণহত্যার বিচারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক।’
এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জাসদ কেন্দ্রীয় দফতর জানিয়েছে, রায়ের দিন দলের শীর্ষ নেতারা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাসদের দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। মামলাটিতে তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। গত ১৪ মে উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।
ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ভ ...
স্টাফ রিপোর্টার: ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার ২০ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ২ ...
স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জুলাই ...
বরিশাল অফিস: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “গণভোটে জনগণ প্রায় ৭০ ভাগ রায় দিয়েছে। গণভোট না থাকলে এই স ...
সব মন্তব্য
No Comments