নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে অবমাননা, কটুক্তি, ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ

প্রকাশ : 04 May 2025
নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে অবমাননা, কটুক্তি, ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ

ডেস্ক রিপোর্ট:  নারী সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং প্রতিবেদন নিয়ে অবমাননা, কটুক্তি, হেয় করা চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক আচরণ ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ 


আজ এক যুক্ত বিবৃতিতে বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্র এর সভাপতি সীমা দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক নিলুফার ইয়াসমিন শিল্পী এ কথা বলেন।

তারা আরো বলেন, "এদেশের নারীরা প্রতিটি গণআন্দোলনে, জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ৫২ 'র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের  প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে নারীরা এগিয়ে এসেছে, লড়াই করেছে। সর্বশেষ জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও আমরা দেখেছি নারীরা কিভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সহযোদ্ধাদের রক্ষা করেছেন, গুলির মুখে দাঁড়িয়েছেন। মায়েরা সন্তানের হাত ধরে রাস্তায় নেমে এসে সন্তানসমদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এ লড়াইয়ের বিজয়ে নারীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ  ও তাৎপর্যপূর্ণ। ফলে অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নারীর মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত হবে এটাই সকলের কাম্য ছিল। স্বাধীন দেশে সর্বপ্রথম একটি নারী সংস্কার কমিশন গঠিত হয়েছে যা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। গত ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ এই কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হবার পর আমরা দেখলাম- অনেকগুলো বিষয়ে তাঁরা সংস্কারের দাবি তুলেছেন যা আধুনিক গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ বলে আমরা মনে করি। বর্তমান সময়ে এসে নারী পুরুষের সমঅধিকার - সমমর্যাদা নিশ্চিত করা প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা, যুক্তিতর্কের উপস্থাপন চলতেই পারে। মত-দ্বিমত থাকতে পারে। এ পরিবেশ তৈরি হওয়াটা জরুরি। অথচ আমরা দেখলাম যৌক্তিক সমালোচনার পথ না ধরে একদল গোষ্ঠী নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাতিলসহ নারী কমিশনের সদস্যদের নানা কটুক্তি, ব্যঙ্গ সহ নারী অবমাননাকর নানা বক্তব্য রাখছেন ও কমিশন বাতিলের দাবি করছেন। সমাজে নারী-পুরুষের যে স্বাভাবিক মর্যাদার সম্পর্ক সেটাকে তারা মানতে নারাজ। সমাজে নারী সম্পর্কিত পশ্চাৎপদ দৃষ্টিভঙ্গিকে জিইয়ে রাখার এ প্রচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন যে কোন মানুষ  বিরোধিতা করে।"

নেতৃবৃন্দ বলেন, "দেশের জনসংখ্যার ৫১ ভাগ নারী। এই নারীদের পিছিয়ে রেখে দেশ এগোতে পারে না।নারীদের মতপ্রকাশ,চলাফেরা, নিরাপত্তা ভীষণভাবে হরণ করা হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করলাম যারা নারী সংস্কার কমিশনের বিরোধিতা করছেন তাদের অন্য কমিশনের রিপোর্টগুলো নিয়ে তেমন কোন আলোচনা নেই। সমাজে নারীর অবস্থান যেন তারাই ঠিক করবেন। এটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পরিপন্থী।  একইসাথে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ।  অসংখ্য মানুষের আত্মবলিদানে  বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যে আকাঙ্ক্ষা-যা জুলাইয়ের চেতনা, তা ভুলুন্ঠিত হতে দিতে আমরা পারি না।

আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি- অবিলম্বে নারী অবমাননাকারী বক্তব্য প্রচার ও নারী সংস্কার কমিশনের সদস্যদের নিয়ে কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।"


সম্পর্কিত খবর

;