ঈদ সামনে,তবু দাম নেই-লোকসানের মুখে ফরিদপুরের পেয়াজ চাষিরা।

প্রকাশ : 07 Mar 2026
ঈদ সামনে,তবু দাম নেই-লোকসানের মুখে ফরিদপুরের পেয়াজ চাষিরা।


অনিক রায়, ফরিদপুর অফিস: ঈদকে সামনে রেখে বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ফরিদপুরের পেঁয়াজচাষিরা। জেলার সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার অনেক কৃষক আগাম পেঁয়াজ তুলে বাজারে আনলেও প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় তারা এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন।


কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সালথা ও নগরকান্দা উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ দুটি উপজেলা ফরিদপুরের অন্যতম প্রধান পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার হাজার হাজার কৃষকের জীবিকা অনেকটাই নির্ভর করে এই ফসলের ওপর।


স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর মৌসুমের শুরুতেই পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। তখন প্রতিমণ পেঁয়াজ দুই হাজার থেকে দুই হাজার দুইশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। এতে অনেক কৃষক আগাম পেঁয়াজ বিক্রি করে লাভবান হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এবারও অনেকে অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলে বাজারে নিয়ে আসেন। তবে এবার বাজার পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৯৫০ থেকে ১১০০ টাকার মধ্যে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।


শুক্রবার সকালে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই কৃষকেরা ভ্যান বা মাথায় করে পেঁয়াজ নিয়ে বাজারে আসছেন। কিন্তু ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ভালো দাম পাচ্ছেন না। শেষ পর্যন্ত সংসারের প্রয়োজনের কথা ভেবে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।


বালিয়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সার, বীজ, কীটনাশক, শ্রমিক মজুরি, সেচ ও পরিবহন খরচ মিলিয়ে প্রতিমণ পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রায় ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হয়েছে। অথচ বাজারে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১১০০ টাকায়। এতে প্রতিমণে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। তিনি বলেন, রমজান মাসে সংসারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়ে আগাম পেঁয়াজ তুলছেন।


কৃষকদের মতে, বর্তমানে বাজারে আসা অধিকাংশ পেঁয়াজ পুরোপুরি পরিপক্ক হয়নি। এসব পেঁয়াজ পরিপক্ক হতে এখনও এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। অপরিপক্ক পেঁয়াজ ঘরে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। সংরক্ষণ করলে দ্রুত পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে বলেই কৃষকেরা কম দামে হলেও বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।


সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুদর্শন সিকদার বলেন, পেঁয়াজ উত্তোলনের মূল সময় এখনও শুরু হয়নি। আগাম পেঁয়াজ তুললে ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি দামও কম পাওয়া যায়। তিনি কৃষকদের পরিপক্ক হওয়ার পর পেঁয়াজ তোলার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর এলাকায় পেঁয়াজের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।


তবে কৃষকেরা বলছেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ সুবিধা বাড়ানো জরুরি। তা না হলে প্রতিবছরই মৌসুমের শুরুতে এমন দামপতনের কারণে কৃষকদের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

সম্পর্কিত খবর

;