কাইল্যা পলাশকে গুলির ঘটনায় ইস্টার্ন হাউজিং কর্মকর্তা রিপন ৪ দিনের রিমান্ডে

প্রকাশ : 15 Jun 2026
কাইল্যা পলাশকে গুলির ঘটনায় ইস্টার্ন হাউজিং কর্মকর্তা রিপন ৪ দিনের রিমান্ডে


স্টাফ রিপোর্টার: দেশের অন্যতম শীর্ষ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের কর্মকর্তা রিপনকে গ্রেপ্তারের পর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা সুজনের দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় রবিবার রিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে ছয় দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের প্রধান কার্যালয় থেকে রবিবার রিপনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে তাকে খিলগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, রিপন এলাকায় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত। তিনি ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি সিদ্দিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্পে জমি দখলসহ নানা কর্মকাণ্ডে রিপনকে ব্যবহার করা হতো। এ কারণে তাকে কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়।


তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর রামপুরা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশকে গুলির ঘটনায়ও রিপন ও সিদ্দিকুর রহমানের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


কাইল্যা পলাশকে গুলির ঘটনায় আরও একজন গ্রেপ্তার। এদিকে, কাইল্যা পলাশকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মারুফ সুলতান ওরফে ফেরদৌস ৩৭ নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-৩ জানায়, রবিবার হাতিরঝিলের উত্তর নয়াটোলা চেয়ারম্যান গলি এলাকার নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মারুফ মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার রূপসপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে।


র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, হাতিরঝিল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশের সঙ্গে মারুফ সুলতান ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তারা পলাশকে হত্যার সুযোগ খুঁজছিলেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন পলাশ। দুপুর পৌনে ২টার দিকে পশ্চিম রামপুরার বিটিভি ভবনের বিপরীতে লাবিবা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে পৌঁছালে মারুফ সুলতান ও তার সহযোগীরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে তার মাথায় গুলি লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।


পরে পলাশের ছেলে ইউসুফ খান পলক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামপুরার ডেল্টা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর রবিবার রাত ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর শনিবার পলাশের স্ত্রী মাহমুদা খানম বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে। এছাড়া নাম উল্লেখ করে আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন বাদশা ওরফে গুজা বাদশা, গলদা বাদশা, শান্ত ওরফে পিচ্চি শান্ত, সোলাইমান খন্দকার, ফারুক ওরফে চাচা ফারুক, হেবেল, মোল্লা জনি, ফিরোজ মোহাম্মদ মোল্লা, পিচ্চি আলামিন ওরফে তোতলা আলামিন এবং সজীব।


সম্পর্কিত খবর

;