বলছেন বিশেষজ্ঞরা

বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রণোদনা বাস্তবায়নে রোডম্যাপ জরুরি

প্রকাশ : 18 Jun 2026
বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রণোদনা বাস্তবায়নে রোডম্যাপ জরুরি

স্টাফ রিপোর্টার: প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য ঘোষিত প্রণোদনাসমূহ জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস ও টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ নির্মাণে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দরকার বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা, গ্রিড আধুনিকীকরণ, শক্তি সঞ্চয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তি সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, গৃহস্থালি ব্যবহারকারী এবং স্থানীয় সেবা প্রদানকারীদের জন্য প্রণোদনার সুযোগ বাড়াতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২০২৭-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রণোদনা : টেকসই জ্বালানি-ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় ভিত্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তারা। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র সহ-আহ্বায়ক এম. এস. সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম। রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তৃতা করেন ড্রিম রিসার্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ডিআরডিএফ) সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।

সভায় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখন বাংলাদেশের জন্য শুধু জলবায়ু বা পরিবেশগত প্রয়োজন নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য যে নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৭ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, নীতিগত প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, বিনিয়োগ সহায়তা বৃদ্ধি এবং সরকারি সংস্থাগুলোর মানসিকতার পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে দেশের জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়া আরো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ধরা’র সদস্য সচিব শরীফ জামিল বলেন, সরকারের ইতিবাচক মনোভাব, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এ খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এম. এস. সিদ্দিকী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক মডেলকে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবেশগত সুবিধাগুলোর অর্থনৈতিক মূল্যায়ন, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে বাধা দূরীকরণ এবং যুবসমাজ ও নাগরিকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় আরো বক্তৃতা করেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, বুয়েটের অধ্যাপক (অব.) ড. ইজাজ হোসেন, স্রেডা’র পরিচালক (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) প্রকৌশলী মো. মুজিবুর রহমান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. সাকিব বিন আমিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (জ্বালানি ও পরিবেশ) তানজিনা দিলশাদ, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের ইকবাল ফারুক প্রমূখ।


সম্পর্কিত খবর

;