সংসদে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী

মেট্রোরেলে ৭৩০ ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাড, ২৭টি ক্রিটিক্যাল

প্রকাশ : 09 Sep 2026
মেট্রোরেলে ৭৩০ ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাড, ২৭টি ক্রিটিক্যাল

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটে ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ পাওয়ার বিষয়ে সংসদে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।


বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি বলেন, স্বাধীন অডিট কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭৩০টি প্যাডের সবগুলো ক্রিটিক্যাল নয়। এর মধ্যে ১৪৭টির ত্রুটিকে মাইনর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, ২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপন ওয়ার্কম্যানশিপ সংক্রান্ত এবং শুধু ২৭টি বেয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হয়েছে।


প্রশ্নে সংসদ সদস্য জানতে চান, অডিট প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৩.২৮ শতাংশ বা ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ এবং ৪৬টি পিলারে ফাটলের বিষয়টি সত্য হলে যাত্রী নিরাপত্তায় সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে।


এ বিষয়ে তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ অক্টোবর ফার্মগেট এলাকায় বেয়ারিং প্যাড খুলে পড়ে এক পথচারীর মৃত্যুর ঘটনার পর হাইকোর্ট ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ৯ সদস্যের স্বাধীন নিরাপত্তা অডিট কমিটি গঠন করে ডিএমটিসিএল। চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে কমিটি গত মে মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরা-মতিঝিল রুটে ৭৩০টি বেয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ, ৪৬টি পিয়ার হেড ও অন্তত ২০টি বক্স গার্ডারে ফাটল রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরও ফার্মগেটে একই ধরনের ঘটনায় ১১ ঘণ্টা মেট্রো চলাচল বন্ধ ছিল। 


অডিট প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অস্বাভাবিক কম্পন ও ঝাঁকুনির কারণে ১০টি স্থানে গতিসীমা কমিয়ে ট্রেন চালানো হচ্ছে, আন্ডারশুটিং সমস্যার কারণে পাঁচটি ট্রেনসেট অপারেশন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং পুরো ব্যবস্থায় এখনো কোনো রিয়েল-টাইম স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। কমিটির মতে, নিম্নমানের উপকরণ, নির্মাণত্রুটি বা নকশাগত দুর্বলতাই এর সম্ভাব্য কারণ। 


সমস্যা সমাধানে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সুপারিশ বাস্তবায়নে গত ১৬ জুলাই ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ‘সেফটি অডিট রিপোর্টের সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। বেয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুতির ঝুঁকি থাকা ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট স্থাপন করা হয়েছে, ২৭টি স্থানে সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য সেটেলমেন্ট মার্কার বসানো হয়েছে এবং ২৭টি ক্রিটিক্যাল প্যাড ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।


তিনি আরও জানান, ৪৬টি পিলারের ফাটলের ঝুঁকি নিরূপণ ও মেরামত কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-কে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। ১০২টি স্থানে স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ বসানোর কাজ আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬ এর মধ্যে শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সব স্টেশনের সাবস্টেশনে ওয়াটারপ্রুফিং এবং পাওয়ার আউটেজ পরিস্থিতিতে যাত্রী উদ্ধারে বিশেষ জরুরি সেবার লাইভ-টেস্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর

;