স্টাফ রিপোর্টার: ‘তন্ত্র-মন্ত্র’ দিয়ে বা জালিয়াতির মাধ্যমে যারা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন এবং অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন, খুব শিগগিরই তাদের চিহ্নিত করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। তিনি আরো জানান, বিগত সরকারের আমলে বাদ পড়া ও হয়রানির শিকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ সব কথা বলেন তিনি। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে এ সংক্রান্ত সম্পুরক প্রশ্ন উত্থাপন করেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার। উত্থাপিত প্রশ্নে তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে গুম, খুন, আয়না ঘরের পাশাপাশি আরেকটা ঘর ছিল, তা হলো যন্ত্র-মন্ত্রের ঘরের মতো। বিভিন্ন এলাকায় ২০০৯ সাল পর্যন্ত যাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কিংবা রাজাকার হিসেবেও চিনতো না। কিন্তু ২০০৮ সালের পরবর্তীতে দেখা গেছে তাদের কাউকে কাউকে রাজাকার বানোনোর চেষ্টা করা হয়েছে। আবার অনেকে সত্যি সত্যি রাজাকার ছিলেন, কোনো এক অজানা কারণে তারা গ্রেফতার হওয়ার পর দেখা গেছে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বের হয়েছেন। ১৭ বছরের ফ্যাসিস্টের আমলে যন্ত্র-মন্ত্রের ঘরের মাধ্যমে যেসব রাজাকার মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন এবং যেসব মুক্তিযোদ্ধা রাজাকার হয়েছেন তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?
জাবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। আশাকরি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই ধরনের অমুক্তিযোদ্ধা, যারা ‘তন্ত্র-মন্ত্র’ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, তাদের সন্তানদের চাকরি দিয়েছেন এবং নিজেরাও বিভিন্নভাবে অবৈধভাবে লাভবান হয়েছেন, আমরা এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। শিগগিরই এর একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হবে।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আশা করে, অল্প দিনের মধ্যেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা আমরা বলতে পারবো এবং জাতির সামনে তা উপস্থাপন করতে পার বো। এ বিষয়ে আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ এসেছে। সংসদ সদস্যরা যে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, সেটি নিয়েও আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরা ইতোপূর্বেই অভিযোগ পেয়েছি এবং জানি যে, বিগত সরকারের সময়ে অনেক মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তাদের সনদ স্থগিত করা হয়েছিল এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল।
সম্পুরক প্রশ্নের সুযোগ নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২০০৯ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ২০০৬ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমার নামটা তারা মুক্তিযোদ্ধাদের খাতা থেকে নামটা কেটে দিয়েছিল। আজ পর্যন্ত আমি এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত আছি। মুক্তিযোদ্ধার গৌরব থেকে আমি বঞ্চিত। এই ‘হারানো গৌরব’ ফিরিয়ে পাবেন কিনা সে প্রশ্ন উত্থাপন করেন তিনি।
জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ওনার যে কাগজপত্র আছে, সে কাগজপত্রগুলো মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অতীতে যারাই বিরোধী দল করতাম, তাদেরই মুক্তিযুদ্ধের সনদ নিয়ে হয়রানি করা হত, সুনামও নষ্ট করা হত। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। ওনার কাগজপত্রাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু কররো। আমি সংসদ সদস্যকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, তার কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে অবশ্যই তিনি তা ফিরে পাবেন।
স্টাফ রিপোর্টার: সাবেক জাতীয় সংসদ স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় তার রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তার জামিন আবেদনও না ...
স্টাফ রিপোর্টার: ভোলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ওই নারীর নাম বিবি সাওদা (৩৭)। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ...
স্টাফ রিপোর্টার: ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটক করার পর তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গ ...
বগুড়া অফিস: বিএনপি সরকার গঠন করেই দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল অ্যধাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান ...
সব মন্তব্য
No Comments