ফ্যাসিবাদী শাসক তাদের সহযোগীসহ ৭১ র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত কর: বামমোর্চা

প্রকাশ : 13 May 2025
ফ্যাসিবাদী শাসক তাদের সহযোগীসহ ৭১ র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত কর:  বামমোর্চা

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজনীতি নিষিদ্ধের নাটক পরিহার করে পতিত ফ্যাসিবাদী শাসক,তাদের সহযোগী সহ ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি করেছে ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা।

ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা'র সমন্বয়ক ও গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন আহমেদ নাসু, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর সাধারণ সম্পাদক হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি শহিদুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান গণমাধ্যমে এই যৌথ বিবৃতি প্রদান করেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পতিত সেই ফ্যাসিস্ট কায়দায় সন্ত্রাস দমন আইন ব্যবহার করে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপিসহ লুটেরাদের সবাইকে হত্যা মামলার আসামী করা হচ্ছে, অজ্ঞাতনামা আসামী করা হচ্ছে শত শত। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট মামলা না করে পুরানো পদ্ধতি ব্যবহার করে মামলা করা মানে অপরাধীদের বাঁচিয়ে দেওয়া এবং গ্রেফতার- জামিন বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি করা। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া এইভাবে মামলা করে আপাতত আটকে রাখা যায়—অবৈধ গ্রেফতার-জামিন বাণিজ্য করা যায়। কিন্তু যথাযথ বিচার করা যায়না, এতে সুষ্ঠু বিচার যেমন বাধাগ্রস্ত হয়, সত্যিকারের অপরাধীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথাযথ প্রমাণের অভাবে পার পেয়ে যায়। বিচার হয় প্রশ্নবিদ্ধ।

আওয়ামী লীগ তিনটি প্রহসনের অবৈধ নির্বাচন করেছে, গুম-খুন করে আন্দোলন দমনের অপচেষ্টা চালিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। এই অপকর্মে দলের এবং রাস্ট্রীয় প্রশাসনের বিভিন্ন ব্যক্তিবিশেষ সহযোগী ছিলেন। সেসমস্ত ব্যাক্তিদের নামে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট মামলা করে দ্রুত বিচার হওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই অপরাধীদের বিচারের নামে নাটক করছে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যা-ধর্ষণে সহযোগিতা ও অংশ নিয়েছিল। সেই সমস্ত অপরাধীদের সবার বিচার হয়নি। বরং ৭১ এর গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের সংগে বর্তমান সরকারের সখ্যতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সরাকারের পৃষ্ঠপোষকতায় তারা হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থাপনা, মুক্তিযদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, মাজারে হামলা-ভাংচুর করছে। নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য দেওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নারীদের নির্যাতন করছে, অপমান করছে।

বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে চুরান্তভাবে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা ব্যাবসায় সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে পারেনি, কৃষকদের ফসলের ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়নি, শ্রমিকদের দাবী বাস্তবায়ন তো দুরের কথা, তাদের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। আমেরিকাসহ সাম্রাজ্যবাদী রাস্ট্রগুলোর কাছে  দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল তুলে দেওয়াসহ মানবিক করিডর প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে দেশকে যুদ্ধ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফলে সরকারের ভুমিকায় দেশবাসী ক্ষুব্ধ। ক্ষুব্ধ জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মুহূর্তে আওয়ামীলীগ সরকার যেভাবে জামাতকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করেছিলো, একইভাবে বর্তমান সরকার ক্ষুব্ধ জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে আওয়ামীলীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার নাটক করেছে। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের মন্ত্রী-এমপি, প্রশাসনিক কর্তাব্যাক্তিসহ ব্যাংক লুটপাটকারী ও বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের দ্রুত বিচার এবং লুটপাটের অর্থ উদ্ধার করে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবী জানান। তারা ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী গণহত্যাকারীদের বিচার দাবী করেন।


সম্পর্কিত খবর

;