জামানত বাড়িয়ে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের প্রার্থী হওয়া অসম্ভব করা চলবে না: বাসদ

প্রকাশ : 06 Sep 2025
জামানত বাড়িয়ে নির্বাচনে সাধারণ মানুষের প্রার্থী হওয়া অসম্ভব করা চলবে না: বাসদ

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশীদ ফিরোজ শুক্রবার ( ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সংবাদপত্রে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক আরপিও সংশোধনের মাধ্যমে জামানত বাড়ানোসহ অনেকগুলো প্রস্তাব করা হয়েছে, তার ফলে নির্বাচনকে জটিল ও সাধারণ মানুষের প্রার্থী হওয়া অসম্ভব করে তুলবে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা এবং নির্বাচনী ব্যয়সীমা ভোটার প্রতি ১০ টাকা হারে ন্যূনতম ৫০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৭৮ লাখ করার প্রস্তাবের ফলে ধনীদের জন্য সহজ এবং সাধারণ মানুষের জন্য প্রার্থী হওয়া কঠিন করে তোলা হয়েছে। এর ফলে বাস্তবে সংসদ পূর্বের মতোই কাটিপতিদের ক্লাবে পরিণত হবে। যা ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের আকাংখার পরিপন্থি।

তিনি আরও বলেন, ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা আমাদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা ভোটারদের মত প্রকাশের পথকে রুদ্ধ করবে। অনলাইনে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার বিধান বাতিল করার প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, এর ফলে নিরাপদে ও নির্বিঘেœ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া কত সহজ করা যায় সেই পথ বের করাই কমিশনের কাজ। অথচ তা না করে কমিশন অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিধান বাতিলের প্রস্তাব করেছে যা মোটেই কাম্য নয়। বিবৃতিতে সশস্ত্র বাহিনীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, এর ফলে দমন পীড়নের মাত্রা বাড়বে এবং ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বিবৃতিতে কমরেড ফিরোজ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ থাকলে বা ফেরারি আসামীদের নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান নতুন জটিলতা তৈরি করবে। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত যতক্ষন পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত না হচ্ছে ততক্ষন অপরাধী সাব্যস্ত না করার নীতিরও পরিপন্থী। এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার প্রবণতাও বাড়বে। তিনি সুষ্ঠু অবাধ গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের লক্ষ্যে ১) জামানত না বাড়িয়ে বরং ৫০০০/= টাকা করা। ২) নির্বাচনী ব্যয়সীমা কমিয়ে ৩ লক্ষ টাকা করা। ৩) শুধু একক প্রার্থীর ক্ষেত্রেই নয় একাধিক প্রার্থীর ক্ষেত্রেও ‘না’ ভোটের বিধান চালু করা। ৪) অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার বিধান বহাল রাখা। ৫) সশ¯্র বাহিনীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতারের ক্ষমতা না দেওয়া এবং ৬) মামলা বা ফেরারি থাকলেই প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার বিধান প্রবর্তন না করার দাবি জানান।

সম্পর্কিত খবর

;