গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ : 07 Aug 2026
গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে: মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যম শক্তিশালী হলেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। তবে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান—সব পক্ষের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকাই একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারে।


শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা শুধু জনগণকে তথ্যসমৃদ্ধ করে না, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাতেও সহায়ক ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা ও তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।


মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল করতে হলে সংবাদমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল থেকে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।


তিনি আরও বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। তবে এই স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধও থাকতে হবে। বিভ্রান্তিকর তথ্য, গুজব বা অপপ্রচার গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই তথ্য প্রকাশে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাগত মান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।


সেমিনারে গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, সংবাদ পরিবেশনের নৈতিকতা, ডিজিটাল যুগে তথ্য যাচাই, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমের জবাবদিহিমূলক ভূমিকা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন।


উল্লেখ্য, এর আগেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও সাহসী সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভালো কাজের প্রশংসা এবং অনিয়মের সমালোচনা—উভয়ই গণমাধ্যমের দায়িত্ব। তাঁর মতে, শক্তিশালী ও স্বাধীন গণমাধ্যমই একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র এবং টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত।

সম্পর্কিত খবর

;