মোঃ আকিক তানজিল জিহান: প্রাচীন সমাজ আধুনিক হয়েছে ঠিকই কিন্তু কমেনি নিম্নবিত্ত মানুষের আর্তনাদ। এখনও তাদের সামান্য ভরনপোষণের অর্থের জন্য পর্যন্ত সমাজের উচ্চবিত্ত শ্রেণীর উপর নির্ভর করতে হয় ব্যাপকভাবে। আবদ্ধ শৃঙ্খলের মাঝে এক প্রকার ব্যার্থ তারা জীবনের তাগিদ মেটাতে। অর্থ-প্রাচুর্য নির্ভর গড়ে ওঠা সমাজব্যবস্থার যাঁতাকলে প্রতিনিয়তই পিষ্ট হচ্ছে তাদের এক একটি স্বপ্ন। শূন্য এ ভুবনে কোথাও কেউ নেই, চারিদিকে শুধু তাদেরই হাহাকার ভেসে বেড়ায়। এদিকে উচ্চবিত্তের কতই না রূপ আর সজ্জা। কেউ থাকে রাজহালে, কেউ অন্ধকারে পড়ে।
সমাজের শ্রেণী বৈষম্যের এই চলমান ধারায় উচ্চবিত্ত হয়েছে আরও উচ্চবিত্ত, গরীব হয়েছে ক্ষুধার্ত। উচ্চবিত্ত খাবার গ্রহণের জন্য যায় হোটেল আর রেস্তোরাঁয়, এদিকে নিম্নবিত্তের জোটেনা রাস্তায় ফেলে দেওয়া অন্ন। কেউ কোটপ্যান্ট পড়ে এয়ার কন্ডিশনার গাড়িতে চড়ে বের হয় লোক দেখানোর জন্য আর অন্যদিকে বস্ত্রহীন মানুষের জীবিকার তাগিদে অন্তহীন ছুটে চলা। কেউ থাকে উঁচু দালানকোঠায় আর কারো জায়গা হয়না রাস্তার ধারে। আরও যে কত কি!
বর্তমান শিল্প নির্ভর পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় মানুষকে আর মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়না। মানুষকে বিবেচনা করা হয় যন্ত্রের সাথে। শিল্পকারখানায় একজন শ্রমিক একটি নির্দ্দিষ্ট সময়ে কতটি পন্য উৎপাদন করল তা পরিমাপ করা হয় এবং এর উপর ভিত্তি করে তার মজুরি প্রদান করা হয়। এছাড়া ন্যায্য মজুরি প্রদান করা হয় না, নির্দ্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই বললেই চলে। অন্যদিকে, মুনাফা লুটে নেয় আঙুল দাগানো মালিক শ্রেণী। একইরকম সমাজের ভিন্নভিন্ন স্তরে কায়িক শ্রমিক, কৃষক, মজুর তাদের ন্যায্য পাওয়া পাওয়া থেকে বঞ্চিত।
এদিকে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর কৃষক, শ্রমিক, মজুরের উৎপাদিত পণ্যের ওপর ভর করেই উচ্চবিত্তের জীবন-জীবিকা আর অর্থ-সম্পদের পাহাড়। দুটি শ্রেণীর মধ্যকার পার্থক্য এটিই যে, একদল শোষক আর অন্যদল শোষিত। শিল্পবিপ্লবের ফলে সমাজব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে ঠিকই তবে এর দরুন প্রভাব শ্রেণী বৈষম্যের এই ভগ্ন-চূর্ণ দশাকে উলঙ্গ করে দিয়েছে বারবার।
আজ বিশ্বের প্রতিটি স্তরে অসমতা দানা বেঁধেছে প্রবলভাবে। নিম্নবিত্ত মানুষ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অপরদিকে উচ্চবিত্তের চাওয়া-পাওয়ার শেষ নেই। সমাজে শ্রেণী বৈষম্যের এই করুন অবস্থা প্রকোপ আকার ধারণ করেছে। সর্বপরি যায় যে, এই আধুনিক বৈষম্যপূর্ণ সমাজব্যবস্থা নতুন মোড়কে দাসপ্রথার পুনরাবৃত্তি করে চলেছে।
-লেখক: শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।
*মতামত বিভাগে প্রকাশিত সকল লেখাই লেখকের নিজস্ব ব্যক্তিগত বক্তব্য বা মতামত।
মোঃ খালিদ হাসান:তিন ভাই-বোনের মধ্যে রাকিব (ছদ্মনাম) সবার ছোট। স্কুলজীবনে মেধাবী, ভদ্র ও সম্ভাবনাময় এই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর নতুন বন্ধু, নতুন পরিবেশ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কয়েকজন ...
মোঃ রফিকুল ইসলাম:গৌরনদী উপজেলার ছোট্ট একটি গ্রামের নাম বাটাজোর। নদীর কাছাকাছি মাটির ঘরে থাকত পারুল আখতার। তার স্বামী রহিম মিয়া দিনমজুর। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে-ঘাটে কাজ করে যা আয় হয়, তাতে ছয় সদ ...
মানিক লাল ঘোষ:স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে যে তরুণেরা নিজেদের বুক পেতে দিয়েছিলেন, তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন আজ নিজ দেশেই পরিকল্পিতভাবে মুছে ফেলার যে অপচেষ্টা চলছে, তা কেবল একটি জাতীয় লজ্জার অধ্যায় নয়; ব ...
বর্ষার নদী কখনো কেবল পানি বহন করে না; সে বহন করে পলি, পোনা, প্রাণ, স্মৃতি এবং মানুষের জীবিকার দীর্ঘ ইতিহাস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ও তাদের শাখা-উপশাখা থেকে বড় আকারের পাঙাশ ধরা পড়ার ...
সব মন্তব্য
No Comments