বিশেষ প্রতিনিধি, মোঃ নূর আলমঃ দুর্যোগ থেকে উপকূল ও সুন্দরবন রক্ষায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। উপকূলের কৃষি, মৎস্যসহ প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় উপকূলীয় উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। ঘূর্ণিঝড় রিমাল এর ছোবলে সুন্দরবনের ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সুন্দরবন গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতান্ত্রিক সেবা প্রদান করে থাকে। মানুষের অত্যাচার থেকে সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন কৃষি উৎপাদন ও মাছের প্রজননের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ইলিশ গতিপথ পরিবর্তন করছে। উপকূলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠির বাসস্থান ্ও জীবন-জীবিকার সংকট উত্তোরণে টেকসই সমাধান দিতে হবে। ২৮ মে মঙ্গলবার সকালে সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্স-এর আঞ্চলিক সদস্য ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ -এর যৌথ উদ্যোগে “উপকূলের কৃষি ও মৎস সম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে করণীয়”শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা এবং ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সহ-আহ্বায়ক এমএস সিদ্দিকী। আলোচনা সভায় সঞ্চলনায় ছিলেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ঢাকা আর্চ ডায়োসিস এর আর্চবিশপ বিজয় নিসফরাস ডি’ক্রুজ ওএমআই, সাবেক সংসদ সদস্য (সংরক্ষতি মহিলা আসন, খুলনা) এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক সদস্য এবং ব্রতী সমাজকল্যাণ সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন মুরশিদ প্রমূখ। আলোচনা সভায় তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন সুন্দরবন রক্ষায় আমরা আন্দোলনের সমন্বয়ক মোঃ নূর আলম শেখ, উপকূল রক্ষায় আমরা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, কক্সবাজারের পরিবেশকর্মী ফরিদুল আলম শাহীন, কলাপাড়া পেকুয়া কক্সবাজারের পরিবেশকর্মী দেলোয়ার হোসেন, দাকোপ খুলনার কৃষিজীবী হিরন্ময় রায়, কলাপাড়া পটুয়াখালীর পরিবেশকর্মী মেজবাউদ্দিন মান্নু, বরগুনার পরিবেশকর্মী মুশফিক আরিফ, মোংলার মৎসজীবী আব্দুর রশিদ হাওলাদার, পটুয়াখালীর মৎসজীবী ইমরান জমাদ্দার, বরগুনার পাথরঘাটার পরিবেশকর্মী শফিকুল ইসলাম খোকন প্রমূখ।
এসময় ইলিশ এর উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শীর্ষক গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর গবেষণা প্রধান মো: ইকবাল ফারুক, তরমুজ চাষে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শীর্ষক গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেন এফএসএল পরিবেশ বিশেষজ্ঞ রফিকুল ইসলাম, এবং কৃষি ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শীষর্ক গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: আশিকুর রহমান। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার বলেন, সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড মানুষের জন্য। তবে উন্নয়ন করতে গিয়ে যদি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে প্রধানমন্ত্রী তা হতে দেবেন না। গঠনমূলক সমালোচনা থাকলে সরকার আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করেন। আমি উপকূলের মানুষ, কৃষির মানুষ। সরকার কাজ করছে, বরাদ্দ দিচ্ছে। কিন্তু এই বরাদ্দ ব্যয়ে যাতে স্থানীয়ভাবে দুর্নীতি না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। বিশেষ অতিথি বিজয় নিসফরাস ডি’ক্রুজ বলেন, উপকূলবাসীর কূল নেই। মানুষ বঞ্চিত হবে, শিক্ষা পাবে না, খাবার পাবে না এটা হতে পারে না। আমাদের সবার জন্য চিন্তা করতে হবে। অন্যের ভালো চিন্তা করতে হবে। অন্যের ভালো করতে না পারলেও মন্দ যেন না করি। মানবজাতিকে একসঙ্গে চলতে শিখতে হবে, নইলে মানবজাতি ধ্বংস হবে। এই বাংলাদেশ আরো মানবিক হয়ে উঠুক। সকলের কল্যাণ হোক। বিশেষ অতিথি ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ বলেন, উন্নয়নকাজে সরকারকে কমিউনিটির মতামত নিতে হবে। উপকূলের জন্য কৌশল ঠিক করতে হবে। নতুন করে পরিকল্পনা করতে হবে। আলোচনা সভায় সঞ্চালক ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর সমন্বয়কারী শরীফ জামিল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ সাইক্লোনগুলো আরো শক্তিশালী হবে আর ঘনঘন আসবে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু এই ঘূর্ণিঝড় রেমাল থেকে আমরা দেখতে পেলাম আগের চেয়ে ধীর গতিতে চলছে আর দীর্ঘ সময় ধরে অবস্থান করছে। এটাও জলবায়ু পরিবর্তনের একটি অভিঘাত। পায়রা বন্দর এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লাবাহী জাহাজ যাতায়াতের কারণে মৎসজীবীরা মাছ শিকার করতে পারছে না। বিরূপ প্রভাব পড়ছে এলাকার তরমুজসহ সমগ্র কৃষিখাতের উপর। সভাপতির বক্তব্যে এমএস সিদ্দিকী বলেন, উন্নয়ন হতে হবে কিন্তু উন্নয়ন কর্মকান্ডের লাভ-ক্ষতির গবেষণা করতে হবে এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। আমরা জেনেছি, মে থেকে জুন ৬৫ দিন, অক্টোবরে ২২ দিন প্রজননক্ষম মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। কিন্তু সেই সময়ে ভারতের জেলেদের উপর কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাঁরা বঙ্গোপসাগরে উভয় এলাকার ইলিশ মাছ অবাধে শিকার করছে। তাতে আমাদের দেশের মৎস সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারকে এই বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি যাতে দুই দেশের মাছ ধরা নিষিদ্ধের সময়কাল সমন্বয় করা যায়।
স্টাফ রিপোর্টার: দেশে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা উৎসাহিত করতে নতুন ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৩০ জুন পর্যন ...
ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের ওপর সক্রিয় লঘুচাপের প্রভাবে আগামী কয়েকদিনে বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
৩ মে সন্ধ্যা থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমক ...
স্টাফ রিপোর্টার: সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে নব-নির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এমপি।
আজ রোববার সংসদ স ...
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক শৃঙ্খলা জোরদার ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা ও ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রো ...
সব মন্তব্য
No Comments