কেয়ার ফোরামের দু’দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

প্রকাশ : 29 May 2025
কেয়ার ফোরামের দু’দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু

প্রবীণ জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য মানবিক ও কার্যকর কেয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান


স্টরফ রিপোর্টার: প্রবীণ জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার প্রয়োজন এমন জনগোষ্ঠীর জন্য একটি মানবিক ও কার্যকর কেয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন দেশি-বিদেশী সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশে কেয়ার ব্যবস্থাকে টেকসই করতে হলে সকলকে একসাথে কাজ করতে হবে। অবকাঠামো, সেবাদানের সক্ষমতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কাজটিকে মর্যাদাপূর্ণ করা, এই চারটি দিকেই জোর দিতে হবে।

আজ বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ কেয়ার ফোরাম-২০২৫ এর দু’দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি কেয়ার (এলটিসি) ব্যবস্থাকে আরো সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং টেকসই করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং আয়াত এডুকেশন ফাউন্ডেশন আয়োজিত এই সম্মেলনে সরকারি নীতিনির্ধারক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং কেয়ার সেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, কেয়ারগিভাররা কেবল কর্মী নন, তারা আমাদের সমাজে ভালোভাবে বেঁচে থাকার অবলম্বন। তাঁদের অবদান ছাড়া আধুনিক জীবনযাত্রা কল্পনাও করা যায় না। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কেয়ার ইকোসিস্টেমকে আরো শক্তিশালী ও মানবিক করে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

একটি কার্যকর কেয়ার ইকোসিস্টেম গঠনে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সেবাব্যবস্থা গঠনে এডিবি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় বাস্তবতার সমন্বয়ে গঠিত হবে।

এডিবি’র প্রধান সামাজিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেস্কো টর্নিয়েরি বলেন, এই ফোরাম কেবল সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার জন্য নয়, বরং বাস্তবসম্মত ও সম্প্রসারণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার একটি প্ল্যাটফর্ম।

প্রথম কারিগরি অধিবেশনে বাংলাদেশের কেয়ার নীতিমালার বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন এডিবি’র জেন্ডার ও সোশ্যাল ইনক্লুশন স্পেশালিস্ট নাশীবা সেলিম। এরপর এডিবি’র ন্যাশনাল এইজড কেয়ার স্পেশালিস্ট ও আয়াত এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইমরান চৌধুরী দেশের প্রথম জাতীয় ডায়াগনস্টিক স্টাডির ফলাফল উপস্থাপন করেন। অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের গ্লোবাল অবজারভেটরি অন লং-টার্ম কেয়ারের পরিচালক অ্যাডেলিনা কোমাস-হেরেরা, এডিবি’র সিনিয়র সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট মেরেডিথ ওয়াইজ, ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্ন-এর ড. অ্যালেক্স রবিনসন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর প্রোগ্রাম প্রধান গুঞ্জন দাল্লাকোটি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যুগ্ম সচিব মো. মাসুদুল হক প্রমূখ।

দিনের শেষ অধিবেশনে প্রতিটি ব্রেকআউট সেশনের সুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হয় এবং একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির চেষ্টা করা হয়। আয়াত এডুকেশন ফাউন্ডেশন ও আয়াত কেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নুসরাত আমান-এর সঞ্চালনায় অধিবেশনে বিভিন্ন থিমেটিক ট্র্যাক থেকে উঠে আসা প্রস্তাবনাগুলো একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি কেয়ার সংস্কারের জন্য একটি সমন্বিত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়।

আজ সমাপনী দিনে সচেতনতা ও শিক্ষা, জেন্ডার ও অভিবাসন, নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে। যা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কেয়ার সিস্টেম গঠনে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।


সম্পর্কিত খবর

;