জুলাই জাদুঘরটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে

প্রকাশ : 10 Aug 2026
জুলাই জাদুঘরটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে কোনো নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের সব শ্রেণি-পেশা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের সার্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।


সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।


বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার একটি সার্বজনীন মহাজাগরণ। এই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরটি বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলের নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দলিল সংরক্ষণের পাশাপাশি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সার্বজনীন স্মৃতি সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে ওঠার কথা ছিল।


তবে বর্তমানে জাদুঘরটি একটি নির্দিষ্ট দলীয় ইতিহাসের প্রতিনিধিত্ব করার দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।


সংগঠনটির অভিযোগ, জাদুঘরে পূর্বে স্থান পাওয়া ভারত সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং মোদি-বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর উল্লেখযোগ্য স্মৃতিচিহ্নও যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাদুঘরের উপস্থাপনায় মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক ঘটনাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ, আন্দোলন এবং আত্মত্যাগের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। পাশাপাশি জেন-জি প্রজন্মকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করা বিভিন্ন কর্মসূচি ও সেসব কর্মসূচির অভিনব নামকরণের ইতিহাসও জাদুঘরে যথাযথ স্থান পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


জাতীয় ছাত্রশক্তির দাবি, এসব কারণে বর্তমান কাঠামোয় জাদুঘরটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ও গণভিত্তিক ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব করতে পারছে না।


বিবৃতিতে সংগঠনটি অবিলম্বে জাদুঘরটিকে কোনো সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রকৃত দলিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষের অংশগ্রহণ এবং আত্মত্যাগের ইতিহাস সংরক্ষণ করে জাদুঘরটিকে একটি সার্বজনীন স্মৃতিশালা হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানানো হয়।

সম্পর্কিত খবর

;