জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে সিপিবির আলোচনা সভা

প্রকাশ : 07 Aug 2026
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে সিপিবির আলোচনা সভা

স্টাফ রিপোর্টার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ ও কোটি জনতার লড়াইকে স্বার্থক করতে দেশকে সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদের হিংস্র থাবা, শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত করতে হবে। জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া জুলাই গণআন্দোলন অসমাপ্ত। সিপিবির নেতৃবৃন্দ দেশপ্রেমিক সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।


আজ ৭ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক মিল্লাত, ডা. মনোজ দাশ প্রমুখ। আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মঞ্জুর মঈন।


আলোচনা সভার শুরুতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির অন্যতম নেতা শহীদ প্রদীপ ভৌমিক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী শহীদ মাহমুদুল হাসান রিজভী, সাপ্তাহিক একতা-এর কর্মী শহীদ আতিকুর রহমান, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আশুলিয়া আঞ্চলিক কমিটির সংগঠক শহীদ আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সূত্রাপুর থানা কমিটির নেতা শহীদ ইউসুফ সানোয়ারসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।


আলোচনা সভায় সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচার, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ। এই গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছিল দেশের ছাত্র-যুবক, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবী এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। সেই গণআন্দোলনে প্রকাশিত মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধামাচাপা দিয়ে কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠী দেশকে বিপথে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। এই কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ অব্যাহত রাখতে হবে।”


সিপিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ চেয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, ধর্ম ও জাতি-নির্বিশেষে মানবিক মর্যাদা, নারীর অধিকার, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, বৈষম্যহীন সমাজ এবং জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। যার বাস্তবায়ন এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে জনগণের সেই প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে। অর্থনৈতিক বৈষম্য, বাজারমুখী নীতি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের কাছে জাতীয় সম্পদ ও স্বার্থ বিপন্ন হওয়া, দুর্নীতি এবং জনস্বার্থবিরোধী নানা সিদ্ধান্তের কারণে মানুষের জীবন আজ ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।”


সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। এটি সমগ্র জনগণের সংগ্রামের ইতিহাস। এই ইতিহাসকে যারা দলীয় সংকীর্ণতা, রাজনৈতিক বিভাজন বা ক্ষমতার স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে।”


আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।


নেতৃবৃন্দ বলেন, শাসকগোষ্ঠী চায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা স্মরণসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে। জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান হবে এমন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে জনগণ হবে রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত মালিক, রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে এবং মানুষের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার সুরক্ষিত থাকবে। এর ধারাবাহিকতায় একদিন বৈষম্য ও শোষণের অবসান হবে। সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি তার সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে।

সম্পর্কিত খবর

;