সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: মাসুদ সাঈদী

প্রকাশ : 14 Sep 2025
সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব: মাসুদ সাঈদী

পিরোজপুর অফিস: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ও পিরোজপুর-১ (নাজিরপুর-পিরোজপুর-জিয়ানগর) আসনের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেছেন, “বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদ ও মানবসম্পদের কোনো ঘাটতি নেই। সমস্যা হলো, দেশ সঠিক নেতৃত্বের অভাবে দুর্নীতির গভীরে নিমজ্জিত। যদি সৎ, যোগ্য ও কোরআনপ্রেমী নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়, তাহলে একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব।” শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নাজিরপুর উপজেলার শেখমাটিয়া ইউনিয়নে আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হাফেজ আব্দুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি মাওলানা জাকির হোসাইন। বক্তব্যে মাসুদ সাঈদী অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার অতীতে তসবিহ হাতে জামায়াত-শিবিরকে কটাক্ষ করত। আজ বিএনপিও একই পথে হাঁটছে। পার্থক্য কেবল মালিকানায়, তসবিহ একই রয়ে গেছে।” তিনি বলেন, “দেশে কোনো কিছু ঘটলেই জামায়াত-শিবিরের ওপর দোষ চাপানো হয়। অথচ আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে, গুলিতে হত্যা করা হয়েছে। এত কিছু সত্ত্বেও আমাদের দমন করা যায়নি, ভবিষ্যতেও যাবে না।” ডাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১০৪ বছরের ইতিহাসে ২৮টি পদের মধ্যে ছাত্রশিবির ২৩টি পদে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তাদের আদর্শ, সততা ও শিষ্ট আচরণের কারণেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছে।” আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মাসুদ সাঈদী বলেন, “পিরোজপুর-১, ২ ও ৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিজয় সুনিশ্চিত। সকল কর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করতে হবে। বিজয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবেন না।” তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংসদ সদস্যদের বেশিরভাগই মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি ৬৫ শতাংশ ভোটারের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে। আমরা চাই, জনগণের পূর্ণ মতামতের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হোক। তাই আমরা পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চাই। যারা জনগণের ভয় পায়, তারাই এই পদ্ধতি থেকে দূরে থাকতে চায়।” অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মজলিসুল মুফাসসিরিন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অধ্যাপক সোহরাব হোসাইন জুয়েল, উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা কাজী মোসালেহ উদ্দিন, উপজেলা যুব বিভাগের সহ-সভাপতি মো. জাহিদুল হক, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মো. মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি হাফেজ ইমরান হোসাইন। এছাড়াও জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সম্পর্কিত খবর

;