পিসিপির ঢাকা মহানগর সভাপতি ঝিমিট চাকমা ও সম্পাদক বাহাদুর ত্রিপুরা

প্রকাশ : 02 Nov 2025
পিসিপির ঢাকা মহানগর সভাপতি ঝিমিট চাকমা ও সম্পাদক বাহাদুর ত্রিপুরা

ডেস্ক রিপোর্ট: বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর ঢাকা মহানগর শাখার ১৯তম কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। এতে ঝিমিট চাকমাকে সভাপতি, বাহাদুর ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক ও সূর্য চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।


শুক্রবার (৩১ অক্টোবর ২০২৫) বিকাল ৪টায় রাজধানীর তোপখানা রোডে একটি হল রুমে এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।


“পাহাড়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক শক্তি এক হও, পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপনের ষড়যন্ত্র বন্ধ, অব্যাহত নারী ধর্ষণ ও ভূমি বেদখলের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ সোচ্চার হোন, আন্দোলন গড়ে তুলুন” এই স্লোগানে পিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি নরেশ ত্রিপুরার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ঝিমিট চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পিসিপি কেন্দ্রীয় সভাপতি অমল ত্রিপুরা, ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য অংসালা মারমা। এছাড়াও কাউন্সিলে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সভাপতি জিকো ত্রিপুরা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সদস্য রূপসী চাকমা।


কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।


কাউন্সিলে অমল ত্রিপুরা বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের অস্তিত্ব ধ্বংস করতে পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছে। তারা পাহাড় নিয়ে প্রতিনিয়ত অপপ্রচার করছে, মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে পাহড়িদের ভূমি বেদখল ও নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলসমূহকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যায়িত করে তথাকথিত সার্বভৌমত্ব রক্ষার নামে পাহাড়ে নতুন করে সেনাক্যাম্প স্থাপনে পাঁয়তারা চলছে। সুতরাং পাহাড়ি জনগণকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠীর সকল অন্যায়, দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।


সংগঠন নিপীড়িত জনগণের শক্তি মন্তব্য করে অমল ত্রিপুরা বলেন, মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে, মুক্তির আকাক্সক্ষায় ও নিরাপদ জীবন যাপন করতে এবং সম্মান-মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই সংগ্রাম করেছিল। বিভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলার মাধ্যমে, কঠোর সংগ্রাম করে লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে নিজেদের অধিকার আদায় করতে হয়েছে। পাহাড়ে মানুষ স্মরণাতীতকাল থেকে সংগ্রাম করে আসছে।


তিনি বলেন, সংগঠন এমন এক শক্তি, যা দিয়ে তরুণ, ছাত্র, জনতা, শ্রমিক, নারীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী মানুষকে সুসংগঠিত করে, ঐক্যবদ্ধ করে। কাজেই সংগঠনই হচ্ছে নিপীড়িত জনগণের এক মহাশক্তি। জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আদর্শিক ছাত্র সংগঠনের পতাকা তলে সমবেত হয়ে লড়াই সংগ্রাম বেগবান করতে তিনি ছাত্র সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।


কাউন্সিলে নরেশ ত্রিপুরা বলেন, পাহাড়ে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে পাহাড় সমতলে সকল প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। অন্যায়, অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আত্মসম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য আমাদের লড়াই সংগ্রাম করতে হবে। ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম ছাড়া কোন বিকল্প নেই।


কাউন্সিল অধিবেশন শেষে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হলে উপস্থিত প্রতিনিধিরা তা করতালির মাধ্যমে পাশ করে নেয়। এতে বিদায়ী কমিটি বিলুপ্তি করে ঝিমিট চাকমাক সভাপতি, বাহাদুর ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক ও সূর্য চাকমাকে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। নব নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান পিসিপির কেন্দ্রীয় সভাপতি অমল ত্রিপুরা।

সম্পর্কিত খবর

;