বীর মুক্তিযোদ্ধা এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার আর নেই

প্রকাশ : 20 Dec 2025
বীর মুক্তিযোদ্ধা এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার আর নেই

ডেস্ক রিপোর্ট:  বীর মুক্তিযোদ্ধা এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার বীর উত্তম আর নেই  । শনিবার ( ২০ ডিসেম্বর ) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৫ বছর। তিনি ০২ ছেলে ০১ মেয়ে এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, বীর উত্তম ১৯৭১ সালে ঢাকাস্থ পাকিস্তান বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে নিযুক্ত থাকাকালীন স্বাধীনতা যুদ্ধ আরম্ভ হলে তিনি  স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ১২ মে ১৯৭১ সালে ঢাকা থেকে ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন এবং ১৫ মে ১৯৭১ তারিখে ত্রিপুরার মতিন নগরে পৌঁছান। তৎকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) তাঁকে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ পদে নিযুক্ত করেন। তাঁর নেতৃত্বেই সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এ বিমানবাহিনীর ঐতিহাসিক ‘কিলোফ্লাইট’ এর অপারেশন সমূহ পরিচালিত হয়েছিল। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার জন্য তিনি ১৯৭২ সালে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এয়ার ভাইস মার্শাল আব্দুল করিম খন্দকার, বীর উত্তম ১৯৮৬ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা ও পরবর্তীতে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় মুক্তি বাহিনীর ডেপুটি চীফ অব স্টাফ হিসেবে তার অসামান্য অবদান, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকরী বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সর্বোপরি স্বাধীন বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে দেশ গঠনে অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১১ সালে তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

তিনি নিঃসন্দেহে পেশাগত জীবনে অনন্য বৈশিষ্টের অধিকারী এবং অনুসরণীয় পেশাদার বৈমানিক ছিলেন। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান এই বীর মুক্তিযোদ্ধা অত্যন্ত সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছেন। ক্ষণজন্মা এই সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান-এর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ  তাঁর নামে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে। 


সম্পর্কিত খবর

;