বৈষম্যবিরোধী আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি নাগরিক সমাজের

প্রকাশ : 30 May 2024
বৈষম্যবিরোধী আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি নাগরিক সমাজের

স্টাফ রিপোটার: বৈষম্যবিরোধী আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। গ্রাম বিকাশ সহায়ক সংস্থা (জিবিএসএস) আয়োজিত সংলাপে এ দাবি জানান তারা। সংলাপে ঋষি সম্প্রদায়ের অধিকার ও টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে ৫ দফা পলিসি অ্যাভোকেসি সুপারিশ উপস্থাপন করে তা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর কন্ফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘ঋষি সম্প্রদায়ের অধিকার ও টেকসই উন্নয়ন সুপারিশ’ শীর্ষক সংলাপে সভাপতিত্ব করেন জিবিএসএস চেয়ারপার্সন প্রফেসর সাজেদা বানু। আলোচনায় অংশ নেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক, কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কেটি ক্রোক, এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর পরিচালক মো: মোখলেছুর রহমান, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুসতাক আহমেদ, এডাব পরিচালক এ কে এম জসিম উদ্দিন, গণআজাদী লীগের সভাপতি মো. আতাউল্লাহ খান, ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা আলমগীর রতন, কজিরবাগ ঋষি পাড়া পঞ্চায়েতের সভাপতি সুজন দাস, ঋষি সম্প্রদায়ের অ্যাডভোকেসি ফোরামের সদস্য কনকা দান ও প্রসেনজিত দাস, জিবিএসএস’র নির্বাহী পরিচালক মাসুদা ফারুক রত্না, সাংবাদিক সীমান্ত সিরাজ প্রমূখ।
সংলাপে ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, যেখানে কেউ পিছিয়ে পড়ে থাকবে না। আইন, নীতিমালা প্রণয়ন থেকে বাস্তবায়ন সকল পর্যায়ে সকলের অংশগ্রহণ হওয়া জরুরি। দেশে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ সমান মৌলিক অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এই কাজে বেসরকারি সংগঠনগুলোকেও রাজনৈতিক সচেতনতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়নের মূলধারায় ঋষি, প্রান্তিক, খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সমৃদ্ধি অর্জন অসম্ভব উল্লেখ করে সাবেক মন্ত্রী রুহুল হক বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে উন্নয়ন কাজ করছে। বাংলাদেশের সকল মানুষের মতই ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষও সকল সুযোগ সুবিধার অধিকার পাবে। তাদের সন্তানেরা যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পাবে। যোগ্যতা অনুসারে যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য ঋষিসহ প্রান্তিক জনগোষ্টীর অশগ্রহণের বিকল্প নেই।
কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কেটি ক্রোক গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইস্তেহারে ঋষি সম্প্রদায়ের অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করা অঙ্গীকার গ্রহণ করায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছেন, তারা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবেন বলে আশাকরি। নিশ্চয়ই ঋষি সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে।
সংলাপে উত্থাপিত সুপারিশে ঋষি সম্প্রদায়ের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নীতিমালা সংশোধন ও একটি সংসদীয় ককাসের গঠনের প্রস্তাব করেন বক্তারা। তারা বলেন, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ঋষি সম্প্রদায়ের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকাশের জন্য তাদের শিক্ষা ও আইনি সুরক্ষাসহ মৌলিক অধিকারগুলোতে প্রবেশাধিকার থাকা জরুরি। তাই ঋষি সম্প্রদায়ের মানুষদের বিশেষ সহযোগিতা দিতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তামূলক কাজে ঋষি সম্প্রদায়ের অধিক অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ঋষি সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েদের ট্যানারি শিল্প কিংবা জুতা কারখানায় যোগ্যতা অনুসারে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন ও সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতে হবে।

সম্পর্কিত খবর

;