শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ

প্রকাশ : 07 Jun 2026
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আজ



স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মিরপুর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ রোববার ঘোষণা করবেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। বিচারক মাসরুর সালেকীন এই রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে ৪ জুন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন। 


মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে খাটের নিচ থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসার মাথাবিহীন দেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ওই দিন সকালে শিশুটিকে ঘর থেকে ডেকে নেয় প্রতিবেশী সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। এরপর সোহেল তাকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করে এবং গলাকেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করতে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা ও দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন করে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। খণ্ডিত মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালালেও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। 


২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে সোহেল রানা ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে। পুলিশ মাত্র ছয় দিনের মাথায় ২৪ মে চার্জশিট দাখিল করে। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়। ফরেনসিক ও ডিএনএ রিপোর্টে শিশুটিকে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। 


এই মামলায় ১ জুন বিচার শুরু হয়। ২ জুন রামিসার বাবা-মা, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষ্যে শিশুটিকে খোঁজার ঘটনা, ফ্ল্যাট শনাক্ত, রক্তের আলামত ও মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে। যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি সোহেল রানার মৃত্যুদণ্ড এবং স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড প্রার্থনা করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী দাবি করেন, মৃত্যুদণ্ডের ধারা প্রমাণ হয়নি। তাই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চান তিনি। 


উল্লেখ্য, অভিযোগ গঠনের মাত্র ৪ দিনের মধ্যেই এই মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন শিশুটির পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীরা। 


সম্পর্কিত খবর

;