ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব ও গঙ্গাস্নানকে ঘিরে কুয়াকাটা সেজেছে বর্ণিল সাজে

প্রকাশ : 03 Nov 2025
ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব ও গঙ্গাস্নানকে ঘিরে কুয়াকাটা সেজেছে বর্ণিল সাজে

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি।। পটুয়াখালীর রাস উৎসব ও গঙ্গাস্নানকে ঘিরে বর্ণিল সাজে সেজেছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। পূণ্যের আশায় নির্ঘুম রাত কাটিয়ে আগামী ৫ নভেম্বর বুধবার পুর্নিমা তিথিতে ভোরের আকাশে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পূণ্যার্থীরা সাগরে নীল জলে পূণ্যস্নান করবে। পরে মন্দিরে স্থাপন করা রাধা-কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা দর্শন করবেন। এ উৎসব উপলক্ষে প্রতি বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো সাধু, সন্ন্যাসী, রাসভক্ত ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে এ বছর ব্যাপক সংখ্যক লোক সমাগম হবে এমনাই আশা করছেন উদযাপন কমিটি। তাই রাস উৎসব ও গঙ্গা স্নানের লক্ষ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

সংশিøষ্টার জানান,কলাপাড়ায় রাস উৎসব ও কুয়াকাটায় গঙ্গা স্নান এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এ ব্যাপারে প্রশাসনের তরফ থেকে কয়েক দফা মিটিং করা হয়েছে। আগমী ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলাপাড়া পৌর শহরের মদন মোহন সেবাশ্রমে ১৭ জোড়া রাধা-কৃষ্ণের যুগল প্রতিমা স্থাপন করা হবে। অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এর আনুষ্ঠানিকতা। এরপর দলবেঁেধ ছুটে যাবে কুয়াকাটায়। রাতভর রাধাকৃষ্ণ মন্দির ও তীর্থযাত্রী সেবাশ্রমে ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করবেন আগত সনাতন ধর্মাবলম্বী হাজারো নারী-পুরুষ। 

এদিকে রাস উৎসবকে ঘিরে সৈকত থেকে শুরু করে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাগুলো সাজানো হয়েছে। একই সাথে পর্যটন স্পট নারিকেল ও ঝাউ বাগান,রাখাইন পল্লি,কেরানীপাড়া বৌদ্ধ বিহার,রাখাইন কালচারাল একাডেমি ও রাখাইন মার্কেট এলাকাকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়িরা।

কলাপাড়া মদন মোহন সেবাশ্রম রাস উদযাপন কমিটির সভাপতি দিলীপ কুমার হাওলাদার বক্তারা, প্রতিবছরই শ্রীশ্রী মদনমোহন সেবাশ্রম আঙিনায় ঐতিহ্যবাহী শ্রীকৃষ্ণের রাস উৎসব ও মেলা উদযাপন হবে। আগামী ৪ঠা নভেম্বর মঙ্গলবার রাতে ৮ টায় আধিবাসের মধ্যদিয়ে শুরু হবে এর আনুষ্ঠিানিকতা। ইতোমধ্যে দোকানীরা বিভিন্ন পসরা সাজিয়ে বসেছেন। এ রাস উৎসব ও মেলা চলবে ৫ দিন। আশাকরি শান্তিপর্ন পরিবেশের মধ্যে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। 

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার মো.হাবিবুর রহমান বলেন, রাস উৎসবকে ঘিরে কুয়াকাটায় বিপুল জনসমাগম ঘটে। এজন্য আমরা নিরাপত্তা জোরদার করেছি। এছাড়া জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। আশা করি এবারের উৎসবও সুষ্ঠু ও আনন্দঘনভাবে সম্পন্ন হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, এই উৎসবকে ঘিরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একাধিক টিম কাজ করবে। দর্শনার্থী ও ভক্তরা নিরাপদে, নির্বিঘ্নে এই উৎসব উপভোগ করবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।


সম্পর্কিত খবর

;