যৌতুক না দেওয়ায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার সুনিয়া

প্রকাশ : 18 Sep 2025
যৌতুক না দেওয়ায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার সুনিয়া

স্টাফ রিপোর্টার: স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ করেছেন শরীয়তপুরের বাসিন্দা সুনিয়া আক্তার। এ অভিযোগে মামলা করায় স্বামী মো. জসিম উদ্দিন বেপারী ও তার সহযোগিরা সুনিয়া ও তার পিতার উপর হামলা করেছে। এখনো নানা ভাবে হুমকি দিচ্ছে। এই অবস্থায় মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও অপরাধীর শাস্তির জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় সুনিয়া।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল মুসলিম শরীয়াহ মোতাবেক শরীয়তপুর জেলার সখিপুর উপজেলার কালাই সরদার কান্দির উত্তর চরকুমারীয়া গ্রামের  মো. জসিম উদ্দিন বেপারীর সঙ্গে সুনিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় জসিম উদ্দিনকে চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য আসবাবপত্র উপহার দেয় সুনিয়ার পরিবার। তারপরও বিয়ের কিছুদিন না যেতেই  স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য চাপ দিতে শুরু করে। প্রথমে তারা ৮ লাখ টাকা ও পরে একটি মোটর সাইকেল কেনার জন্য ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। মোটর সাইকেল কেনার টাকা দেওয়া হলেও বাকী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে সুনিয়ার পরিবার। এরপর থেকে সুনিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন জসিম। সে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি যৌতুক ছাড়া ফিরিয়ে নেওয়া হবে না জানিয়ে সুনিয়াকে তার বাবার বাড়িতে রেখে যায়। এই ঘটনার পর সুনিয়া আক্তার শরীয়তপুরের সখিপুর থানায় যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় একটি মামলা (সি.আর. মামলা নম্বর ৫২/২০২৫) দায়ের করেন ।

অভিযোগে জানা যায়, মামলা দায়েরের পর গত ২২ মে আদালত থেকে ফেরার পথে জসিম উদ্দিন বেপারী ও তার সহযোগীরা সুনিয়া ও তার বাবার ওপর হামলা করে। সুনিয়াকে এলোপাথাড়ি মারধর করে জসিম উদ্দিন। তার বাবাকেও মারাত্মকভাবে জখম করে। তারা ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। হামলার শিকার সুনিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধনী ২০০৩) আইনের ১১(গ)/৩০ ধারা অনুযায়ী ভেদরগঞ্জ আদালতে আরেকটি মামলা (সি.আর. মামলা নম্বর ৬২/২০২৫) দায়ের করে। 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, প্রতিনিয়ত মেয়েটির ওপর নির্যাতন চালাতো জসিম উদ্দিন। মনে হয় নেশাগ্রস্ত থাকে, তা না হলে এভাবে কেউ নির্যাতন করতে পারে না। একজন দোকানদারও একই ধরনের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন। সুনিয়ার বড় ভাই জানান, টাকার জন্য আমার বোনকে নিয়মিত নির্যাতন করত জসিম। শুনেছি, সে অনলাইন জুয়ায় জড়িত ছিল। আদালতে মামলা করার পরও তার বোন ও পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এলাকার চেয়ারম্যান বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

সুনিয়ার অভিযোগ, জসিম উদ্দিন এখনো প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। বলছে, তোরা কিছুই করতে পারবি না। আদালতও আমার কিছু করতে পারবে না। হামলা ও হুমকির কারণে সুনিয়া ও তার পরিবার অসহায় বোধ করছে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করেন আইনজীবী গোবিন্দ প্রামাণিক। তিনি বলেন, অভিযোগের স্বপক্ষে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় দ্রুত তদন্ত শুরু হওয়া উচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ফৌজদারি দণ্ডের মুখোমুখি হবেন। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন বেপারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন কথা বলতে চাই না, এটা লিখে দেন।


সম্পর্কিত খবর

;