অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কলাপাড়ায় গ্রামের পার গ্রাম।। পানিবন্ধি হাজারও মানুষ

প্রকাশ : 08 Aug 2023
অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে কলাপাড়ায় গ্রামের পার গ্রাম।। পানিবন্ধি হাজারও মানুষ

কলাপাড়া (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অতি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে গ্রামের পার গ্রাম। ডুবে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর। পানিবন্ধি হয়ে পড়েছে উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কাঁচা কিংবা অর্ধপাকা রাস্তাঘাট ডুবে রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছে মোসুমী সবজি চাষী ও আমন চাষীরা। এছাড়া অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী উপস্থিতিও কমে গেছে। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃষ্টির কারনে শতশত শ্রমিকরা মাঠে কাজ করতে না পেরে কর্মহীন হয়ে পড়েছে। অনেকের বাড়ী-ঘরে পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব পরিবারের উনুন এখন ঘরের দোতলায়। বিভিন্ন গ্রামে সাপের উপদ্রবও বেরে গেছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে আমন বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে থাকায় তা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে এ বছর আমন ফসল পাওয়া নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে এসব কৃষকরা। একই সাথে জলাবদ্ধতায় বর্র্ষাকালীন সবজি সহ অন্যান্য সবজির ক্ষেতে পচঁন ধরেছে। দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের চরম সংকট। আবার অনেকেই আশে-পাশের অপেক্ষাকৃত উচুঁস্থানে গরু-ছাগল নিরাপদে রেখেছেন।
টিয়াখালী গ্রামের কৃষক মুনসুর আলী জানান, তাদের ঘরের মধ্যে পানিতে থৈ থৈ করছে। তাদের আয়ের উৎস জমির ধান। এবছর পানিতে বীজতলা তলিয়ে থাকায় আমন ফসল নিয়ে তিনি শংকিত হয়ে পড়েছেন।
অপার এক কৃষক মোতালেব জানান, এক সপ্তাহ টানা বৃষ্টিতে সবজি ক্ষেতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এতে তার ক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
ঘের মালিক মো.বসির হাওলাদার বলেন, তার সবক’টি ঘের এবং পুকুর থেকে চার ভাগের তিন ভাগ মাছ পানিতে ভেসে গেছে। তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ধার-দেনা করে মাছ চাষ করেছিলেন। টাকা পরিশোধ নিয়ে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো.শাহজাদা পারভেজ টিনু মৃধা বলেন, অতি বৃষ্টিতে প্রায় ২শতাধিক মাছের ঘের ও ২ হাজার পুকুর পানিতে ডুবে গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে রাস্তা তলিয়ে রয়েছে। মোট কথা এলাকার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এখন ঘর বন্ধি রয়েছে। তবে তিনি এলাকায় ঘুরে ঘুরে জলাবদ্ধতা নিরসনে আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ বলেন, বৃষ্টির পানি যাতে দ্রুত সারানো যায় সেজন্য ¯øুইজ গুলো ওপেন করা চেষ্টা চলছে। এ ব্যপারে স্পেশাল একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিন কাজ করছেন। যারা বাঁধ দিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর

;