অনিক রায়,ফরিদপুর অফিস: ফরিদপুরে হামের উপসর্গে একের পর এক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ শনিবার (১৮ এপ্রিল) আট মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা পাঁচ ছাড়িয়েছে। একইসঙ্গে আক্রান্তের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মৃত শিশু আবদুল্লাহ (৮ মাস) শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকার বাসিন্দা। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলেও প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তবে উপসর্গের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা এটিকে ‘ক্লিনিক্যালি হামজনিত মৃত্যু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত ৬৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৩৫৭ জন রোগী হামের চিকিৎসা নিয়েছেন। মৃতদের মধ্যে ফরিদপুর ছাড়াও গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও রাজবাড়ী জেলার শিশুরাও রয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের কথা জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে শনিবার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা সীমাবদ্ধ থাকলেও ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড পর্যায়ে এখনো তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রচারণা বা ক্যাম্পেইন শুরু হয়নি।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, পূর্বে টিকা নেওয়া থাকলেও এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি শিশুকে অতিরিক্ত এক ডোজ টিকা দেওয়া হবে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও জোরদার করবে।
তিনি আরও বলেন, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকার কোনো বিকল্প নেই এবং অভিভাবকদের সন্তানদের নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রচারণা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সময় স্বল্পতার কারণে এখনো গ্রামাঞ্চলে আনুষ্ঠানিক ক্যাম্পেইন শুরু হয়নি। তবে শিগগিরই স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্টাফ রিপোর্টার: সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ জন এবং সন্দেহজনকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৪২ জন।
স্টাফ রিপোর্টার: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১১৫। এ সময় ১২৭ জন নিশ্চিত হাম রোগী ...
ডেস্ক রিপোর্ট:দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ ও আক্রান্ত মিলিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রি ...
স্টাফ রিপোর্টার: গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম রোগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের স্বাস্থ্য সংবাদ ব ...
সব মন্তব্য
No Comments